কৃষি সময় ডেস্কঃ
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলার ২৯টি বাঁওড়কে কেন্দ্র করে নতুন প্রকল্প গ্রহন করেছে মৎস্য বিভাগ। এই প্রকল্পের আওতায় যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার বাঁওড়গুলোতে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার জেলেদের জীবিকা আরও সমৃদ্ধিও পাশাপাশি মাছের উৎপাদন অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যশোর অঞ্চলের বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে সে সময় একাধিক সভা-সমাবেশ হয়। ওই সভায় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পরে প্রকল্পের জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়। বর্তমান সরকারের সময়ে জনবল কাঠামোর অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির ব্যয় ও কার্যক্রম মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
পাঁচ বছর মেয়াদি ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁওড় খনন, মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা উৎপাদন অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া বাঁওড়ের নির্বাচিত অংশ খনন করে গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমেও মাছের বসবাস ও বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে ২৯টি বাঁওড়ে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান ৩৫টি পোনা উৎপাদন পুকুর সংস্কার করা হবে। এবং পানি সরবরাহের জন্য ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। বাঁওড় ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ, পোনা সরবরাহ ও সম্প্রসারণ সেবার অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে জরাজীর্ণ ছয়টি বাঁওড় ব্যবস্থাপকের অফিস ভবন পুনর্র্নিমাণ করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ বছরে ২৯০টি বিল নার্সারি স্থাপন এবং রুইজাতীয় ও দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হবে। বিল নার্সারির মাধ্যমে পোনা লালন-পালন ও উৎপাদন কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ধারিত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে জলাশয় খনন, অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা উৎপাদন, পানি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু মাছের উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং বাঁওড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। নির্বাচিত জলাশয় চিহ্নিত করে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, মাছের নিরাপত্তায় নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অভয়াশ্রমের নির্ধারিত এলাকায় মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে, যেন মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। বর্ষা মৌসুমে মাছ আশপাশের নদী ও বিলে ছড়িয়ে পড়লে সেখান থেকে স্থানীয় জেলেরা মাছ আহরণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
কৃ/স/জয়