ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ
কেঁচো সার উৎপাদন করে একটি গ্রামের নারীরা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এ গ্রামের ১২০টি পরিবার এখন এই সার উৎপাদন করে আয় রোজগার করছেন। এর মাধ্যমেই চলছে তাদের সংসার। তাদের উৎপাদিত সার যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাটুয়াপাড়া গ্রামের নারীরা এভাবে সার উৎপাদন করছেন।
জানা যায়, ২০১৬ সালে গ্রামের পাঁচ হতদরিদ্র নারী আমেনা খাতুন, সাজেদা খাতুন, রাশিদা খাতুন, শাহিনা ও মিনারা খাতুন তিন দিনের কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন তাদের এই সুযোগ করে দেয়। এই প্রশিক্ষণ এখন তাদের জীবন বদলে দিয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে বিনামূল্যে ২৫০ গ্রাম কেঁচো ও দুটি করে চাড়ি দেওয়া হয়। তবে কাজটি শুরু করা সহজ ছিল না। পরিবারের বাধা, কুসংস্কার ও সামাজিক অবহেলার মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। তবে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে তারা কাজ চালিয়ে যান। তাদের সাফল্য দেখে গ্রামের অন্য নারীরাও কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী হন। সেই উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ে বাড়ি থেকে বাড়িতে। বর্তমানে গ্রামের ১২০টি পরিবার এ কাজে যুক্ত। সব মিলিয়ে মাসে ১০ থেকে ১২ টন কেঁচো সার উৎপাদন ও বিক্রি করছেন তারা।
এই কাজে নারীরা যুক্ত আগে তাদের পরিবারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। অধিকাংশ পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। সেই গ্রামের চিত্র এখন বদলে গেছে। বাড়ির আঙিনায় কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন নারীরা। তাদের দেখানো পথ ধরে গ্রামের ১২০টি পরিবার এখন এ কাজে যুক্ত। স্থানীয়ভাবে গ্রামটি এখন ‘কেঁচো সারের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত।
শুরুর পাঁচ নারীর একজন মিনারা খাতুন। তার ভাষায়, প্রতিটি চাড়ি থেকে মাসে ২০-২৫ কেজি সার পাওয়া যায়। পাইকারি প্রতি কেজি ৭-৮ টাকা এবং খুচরা ১০ টাকা বিক্রি করেন। সার ও কেঁচো বিক্রি করে মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়তি আয় হয়। কোনো কোনো মাসে আয় আরও বেশি হয়। তার মতে, কেঁচো ও গোবরের সরবরাহ ঠিক থাকলে সার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
কৃ/স/জয়