কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মাদারীপুরে দেশি মাছের আকাল

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরে দেশি মাছের আকাল চলছে। নদ-নদী,খাল-বিলে দেশি মাছ ধরা না পরায় বাজার আর আড়তে দেশি মাছ মিলছে না। এতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে চাষের মাছ কিনছে সাধারণ মানুষ। 

মৎস্য ব্যবসায়ীদের দাবি, নদ-নদীতে অবাধে কারেন্ট জাল ব্যবহারের কারণে দেশি মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক বিল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদনও কমে আসছে। অন্যদিকে মানুষের খাদ্যতালিকায় দেশি মাছের চাহিদা আগের মতোই তুঙ্গে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দাম হুহু করে বাড়ছে।

জেলার পুরান বাজার ও ইটেরপুল পাইকারি মাছের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা ও আশপাশের নদ-নদী থেকে সামান্য কিছু মাছ এলেও পুকুর, বিল ও জলাশয়ের দেশি মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় ভোর থেকেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে রুই, কাতলা, বোয়াল, শোল, টেংরা, পাবদা, কৈ ও শিংসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার খুচরা বাজারগুলোতেও।

গত দুই সপ্তাহ ধরে নদ-নদী ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় আড়তগুলোতে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ফলে রুই-কাতলা থেকে শুরু করে টেংরা-পাবদার মতো জনপ্রিয় দেশি মাছের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় তাদের নাভিশ্বাস তুলেছে।

মাছ কিনতে আসা সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, কয়েক দিন আগেও যে মাছ ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় কিনেছি, এখন সেটির দাম ৭ শ’থেকে ৮শ’টাকা চাওয়া হচ্ছে। সংসারের সব জিনিসের দামই তো বাড়ছে। তার ওপর মাছের এমন চড়া দাম সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী জসিম হাওলাদার জানান, দেশি মাছের চাহিদা সবসময়ই বেশি। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় দামও বেড়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আশা করি দামও কিছুটা কমে আসবে।

পুরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. রফিক শেখ বলেন, আমরা ইচ্ছে করে দাম বাড়াই না। আড়তেই মাছ কম আসছে। যতটুকু আসে, তা-ও বেশি দামে কিনতে হয়। এ ছাড়া পরিবহন খরচ, বরফ ও শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। সব মিলিয়ে বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

পুরান বাজার মাছ আড়তের ইজারাদার মো. কামাল হোসেন বলেন, আড়তে কোনো কৃত্রিম সংকট নেই। মূল সমস্যা হলো দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাওয়া। নদী ও বিল থেকে আগের মতো মাছ আসছে না। প্রশাসন যদি অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে, তবে দেশি মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং বাজারও স্থিতিশীল হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মূল্যস্ফিতি কিছুটা বেড়েছে

1

সফল কৃষি উদ্যোক্তা ফেনীর রিপন চেয়ারম্যান

2

সাড়া ফেলেছে ভেষজ লেমন ঘাসের চা পাতা

3

দেশের তিন পাটকল আবার চালু হচ্ছে

4

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

5

মানিকগঞ্জে ৫ হাজার কৃষকের সর্বনাশ

6

নওগাঁয় আম বাগানে আনারস চাষাবাদ

7

সুন্দরবনের ৮২৭১ জেলে পাচ্ছেন খাদ্য সহায়তা

8

ইউএনওর কার্যালয় এখন পাখিদের আবাসস্থল

9

দেশে ক্ষুদ্র কৃষকের বার্ষিক আয় ৩৪ হাজার টাকার কম

10

ডিম-মুরগি বিক্রি : সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের পাশাপাশি ন্যূনতম

11

যমুনা নদী ভাঙ্গন ও বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ভয়েস অব কাজিপুর

12

তিন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে বাকৃবিতে মানববন্ধন

13

দুজন দিয়ে চলছে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম

14

পিরোজপুরে যৌথ অভিযানে ৩টি অবৈধ বাঁধা জাল ধ্বংস

15

২৮ ভারতীয় গরু জব্দ

16

জলবায়ু পরিবর্তনে মহেশখালীর মানচিত্র বদলে যাচ্ছে

17

এক কাঁঠালের দাম ১০ হাজার টাকা

18

কৃষকের ৪ শতাধিক ফলদ কলাগাছ কাটলেন প্রতিপক্ষরা

19

উল্লাপাড়ায় বাড়ছে আখ চাষাবাদ

20