কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দেশের মাটিতে বিদেশি ফলে বাজিমাত

স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশের মাটিতে এখন একের পর এক বিদেশি উচ্চ মূল্যের নানা ফল চাষাবাদ করে বাজিমাত করে চলেছেন চাষীরা। এতে একদিকে যেমন ফল আমাদির অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের চাষীরা এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। ময়মনসিংহের ভালুকার গেয়ারী গ্রামে দুই কৃষি উদ্যোক্তা বিদেশি ফল রাম্বুটান চাষাবাদ করে পেয়েছেন আকাশছোঁয়া সাফল্য। এরা হচ্ছেন শেখ মামুন ও আশরাফ শুভ। ২০ বিঘা জমিতে গড়ে ওঠা তাদের ফল বাগান থেকে আয় করছেন কোটি টাকা। 

জানা যায়,কয়েক বছর আগেও এই দুই উদ্যোক্তা তাদের বাগানে দেশি ফলের বাগান করেন। যেখানে আম, পেয়ারা, কিংবা বরই চাষ করেও লাভের মুখ পারেননি। উৎপাদন খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন পথের সন্ধান। ২০২০ সালের শেষ দিকে থাইল্যান্ড থেকে রাম্বুটান ও লংগানের চারা এনে শুরু করেন পরীক্ষামূলক চাষ। এই চাষাবাদই আজ তাদের ভাগ্যর চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। 

ভালুকার গোয়ালী গ্রামে তাদের ফল বাগানে এখন এক ভিন্ন দৃশ্য। সারি সারি গাছে কোথাও লাল রঙের কাঁটাওয়ালা রাম্বুটানের থোকা। কোথাও আবার ঝুলছে সোনালি-বাদামি রঙের লংগান বা কাঠলিচু। দূর থেকে দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও স্বাদে আলাদা। বিদেশি এই দুই ফল এখন শুধু বাগানের সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না,তাদের করেছে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল স্বাভলম্বী।

এই উদ্যোক্তাদের ২০ বিঘা আয়তনের বাগানে রয়েছে ৩৫০টি রাম্বুটান গাছ। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের লংগান, থাই কাটি মন, পেঁপেসহ দেশি-বিদেশি নানা ফলের সমাহার। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন বাগান দেখতে, ফল কিনতে কিংবা চারা সংগ্রহ করতে।

বাগানের একাংশজুড়ে রয়েছে ফোর সিজন, কোহালা, রুবি, হোয়াইট, পিংপং ও ডায়মন্ড রিভারসহ বিভিন্ন জাতের লংগান। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় কোন জাত সবচেয়ে ভালো ফলন দেয়, কোনটির স্বাদ বেশি, কোনটিতে শাঁস বেশি এসব নিয়ে কয়েক বছর ধরেই কাজ করছেন উদ্যোক্তারা।

বাগানের উদ্যোক্তা শেখ মামুন বলেন, এবার ফলন আরও বেশি হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু ফুল আসার সময় টানা বৃষ্টির কারণে অনেক গাছে ফুলের বদলে নতুন পাতা চলে আসে। তবুও ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকার রাম্বুটান বিক্রি হয়েছিল। এবার সেই আয় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকায় পৌঁছাবে বলে তার আশা। ফল পাকতে শুরু করলেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা বাগানেই চলে আসেন। বর্তমানে প্রতি কেজি রাম্বুটান প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাগানটি এখন শুধু ফল উৎপাদনের জায়গা নয়, অনেকটা কৃষি পর্যটনের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন।

এই ফল বাগানের আরেক উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ বলেন, তাদের লক্ষ্য শুধু ফল বিক্রি নয়, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগী লংগান বা কাঠলিচুর জাত নির্বাচন করা। এবার প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় লংগান বিক্রি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ফলের আড়ত ও সুপারশপের প্রতিনিধিরা সরাসরি বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করেছেন।


ভালুকা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর জাহান জানান, রাম্বুটান একটি উচ্চমূল্যের ফল। স্বাদ ও সৌন্দর্যের কারণে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ বাগান দেখতে আসছেন, চারা কিনছেন এবং নতুন বাগান গড়ার পরামর্শ নিচ্ছেন। ভালুকার এই বাগান যেন একটি বার্তাই বাংলাদেশের মাটিতেও বিদেশি ফলের সফল চাষ সম্ভব। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় সহায়তা দেবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

1

চাটমোহরে কুকুর হত্যার অভিযোগ

2

সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্কে কমছে মধু সংগ্রহ

3

শতকোটি টাকার পানিফল বিক্রির সম্ভাবনা

4

নিজ জেলায় ফিরছেন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা

5

আগাম শিম চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

6

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

7

১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

8

পুকুরে বিষ দিয়ে ৯০ মন মাছ নিধন

9

হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা

10

কোষ্টগার্ডের হাতে জাল মাছ জব্দ

11

ওল চাষে রূপকের ভাগ্য পাল্টেছে

12

উপকূলীয় অঞ্চলে সহনশীলতা বাড়াতে জাতীয় পরামর্শ সভা

13

বাণিজ্যিক বেদেনা চাষে শিবলির ভাগ্য বদল

14

চার চারা থেকে প্যাশন ফলের বাগান

15

কাফকো’র থেকে ১৩২ কোটি টাকার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন

16

মরুর খেজুর এবার পাবনায়

17

৫০ হাজার চিংড়ি পিএল জব্দ

18

কুড়িগ্রামে কেঁচো সারের ব্যবহার বাড়ছে

19

সার নিয়ে হার্ডলাইনে সরকার

20