কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলণে চাষিদের মুখে হাসি

নরসিংদী প্রতিনিধিঃনরসিংদীতে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি  পাওয়া লটকনের এবার বাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। এই ফল বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছেন জেলার চাষীরা। যার মাধ্যমে তারা নিজেদের সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। পাশাপাশি মৌসুমী এই ফল বিক্রির মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর লাল মাটিতে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকায় লটকনের ভালো ফলন হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। এ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ফল উৎপাদন আশা করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা।
দেশের ফল ও সবজির অন্যতম উৎপাদন অঞ্চল নরসিংদী। আর এ জেলার নাম উচ্চারণ করলেই মনে পড়ে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ মৌসুমি ফল লটকনের কথা। ‘লটকনের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এ জেলায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। 
বর্তমানে জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার হাজারো পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস লটকন চাষ। অনেক শিক্ষিত তরুণও এই ফলের বাগান করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
এক সময় তেমন কদর না থাকলেও এর কিন্তু পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি এখন লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। নরসিংদীর লটকন ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমে গাছের কাণ্ডজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা লটকন জেলার প্রকৃতিতে যোগ করে ভিন্ন সৌন্দর্য।
ভাল ফলনের পরেও চাষীদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতেই অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটা কম দামে বিক্রি হয়েছে এ ফল। 
লটকন চাষি করিম চৌধুরী বলেন, তিনি নিজেই বাগানের লটকন পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। এতে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমির লটকন বিক্রি করে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন।
স্থানীয় লটকনের পাইকারি ব্যবসায়ী হিমেল জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও মৌসুমের শুরুতেই ৭ টি বাগান কিনেছেন। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এসব বাগানের লটকন বিক্রি করে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, নরসিংদীর মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলনও খুব ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।
কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে প্রতিদিন কমছে ৩১৭ একর কৃষিজমি

1

কুড়িগ্রামে বন্যায় ৩১৪ কোটির ফসলের ক্ষতি

2

পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বাস ভাসা মওকুফ

3

আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে নিরাপদ চিংড়ি উৎপাদন নিশ্চিত

4

বাংলাদেশের পাট ভারতের চেয়ে ভাল ঃভারতের কৃষিমন্ত্রী

5

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

6

এক গাছেই ধরেছে ১০ জাতের আম

7

৬৫ কচ্ছপ সালদা নদীতে অবমুক্ত

8

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে জানুয়ারিতে সচেতনামূলক কর্মসূ

9

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে হারিয়ে যাচ্ছে ডেউয়া

10

অন্ধকারে ৭২১ কোটির ‘কৃষক স্মার্টকার্ড’ কার্যক্রম

11

দাম নেইঃ পানের বরজ ভাঙছেন চাষী

12

উজানের ঢলে ভেসে গেছে ফসল মাছের ঘের

13

৫ একর বনভূমি উদ্ধার

14

বাঁশের পণ্য বিশ্ববাজারে পাঠাতে চান হাজীমুল

15

লাউ চাষাবাদে কলেজছাত্র শান্তের সাফল্য

16

বাগেরহাটের ঢেঁড়স চাষীরা হতাশ

17

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি

18

৯৩ হাজার কোটি ঘাটতি নিয়ে এনবিআরের বছর পার

19

৭ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ

20