দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের খানসামার মাঠে মাঠে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন আমন চাষীরা। কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন,কেউবা জমিতে সেই চারা লাগাচ্ছেন। টানা বৃষ্টি আর বন্যার পর তারা কোমর বেধে শুরু করেছে আমান চাষাবাদ।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমিতেও দ্রুতগতিতে কাজ চলছে
ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই কাঁধে ধানের চারা, হাতে কোদাল আর মুখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে ছুটছেন কৃষকরা। কারও পায়ের নিচে কাদামাটি, কারও কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে একের পর এক ধানের চারা রোপণের দৃশ্য। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, যেন সবুজের এক বিশাল ক্যানভাস আঁকছেন তারা।
উপজেলার আলোকঝাড়ী, ভাবকী, ভেড়ভেড়ী, গোয়ালডিহি, আঙ্গারপাড়া, খামারপাড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঘুরে দেখা যায়, আমন রোপণের কাজে এখন কৃষকদের দম ফেলারও সময় নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোপণ শেষ করতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়েও মাঠে কাজ করছেন। শ্রমিক সংকট থাকলেও থেমে নেই চাষাবাদ। কারণ, কৃষকদের বিশ্বাসÑসময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে ফলনও ভালো হবে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে,প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ জন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি ধান বীজ। ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি (পটাশ) সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের জমি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান,এ বছর প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের খরচ কমেছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কম হবে। তবে সার, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও ভালো ফলনের আশায় তারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে আমান চাষাবাদে কৃষকদেও প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক তাদের কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৭১ হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদনের আশা করছি।
কৃ/স/জয়