কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ঝিনাইদহের ড্রাগন চাষে সাঈদের ভাগ্য বদল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ চাকরি ছেড়ে ড্রাগন ফল চাষবাদ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন ঝিনাইদহের আবু সাইদ। ফল বিক্রির পাশাপাশি ড্রাগনের চারা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। এর মাধ্যমে তিনি নিজের বাঘ্যর চাকা ঘুরিয়েছেন। আবু সাইদ সরকার ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

জানা যায়, ২০২১ সালে একটি এনজিও ছেড়ে নিজের দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষাবাদ শুরু করেন আবু সাইদ। একই সময় নিজের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি চাচাতো ভাইয়ের জমিতেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ড্রাগন চাষ শুরুর পর থেকে নিজেই চারা উৎপাদন শুরু করেন। ভ্যানে করে সেই সব চারা আমি ঝিনাইদহ শহর, কালীগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গায় বিক্রিও করেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় ড্রাগনের চারা বিক্রি করেন। এ থেকে তিনি আয় করতে থাকেন। তবে এই পথ চলাচটা ছিল দারুন কষ্টের। তবে দমে যাননি তিনি। ড্রাগন বাগানের ফল আর চারা বিক্রি কওে ধীরে ধীরে এখন তিনি প্রায় ১২ বিঘা জমিতে ড্রাগনের বাগান সম্প্রসারণ করেছেন। তার উৎপাদিত ফল এখন সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। এই ফল রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

সাইদের ড্রাগন বাগানের দেয়া চারা থেকে গাজীপুরের মাওনা, চাঁদপুর, কুমিল্লার নিমসার, খাগড়াছড়ি, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন বাগান গড়ে উঠেছে। শুণ্য থেকে এখন তিনি এই চাষাবাদের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যর চাকা ঘুরিয়ে সচ্ছল স্বাভলম্বী হয়েছেন। 
শুধু চাষাবাদই নয়। এর পাশাপাশি ঝিনাইদহের ড্রাগন ফলের মোকাম হিসাবে পরিচিত গৌরীনাথপুর বাজারে ফলের আড়ত চালু করেছেন আবু সাইদ। নিজের বাগানের ফল বিক্রির পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকদের কাছ থেকে ফল কিনে তা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন।  প্রতিদিন তার আড়তে নিজের বাগান সহ স্থানীয় চাষীদের বিপুল পরিমাণ ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে। 

আবু সাঈদ সরকার জানান, আমার প্রথম যাত্রা অনেক কঠিন ছিল। অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। দিনে চারশ’ টাকা মজুরি পেতাম। কিন্তু তা দিয়ে আমার সংসার চলতো না। তাই, চাকরি ছেড়ে কৃষি কাজ শুরু করায় মানুষ আমাকে নিয়ে নানা রকম কথা বলেছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। হতাশ হইনি। আমি মনে করি, বেকার বলে কিছু নেই। মানুষ কখনো বেকার থাকে না। চাকরির পেছনে না ছুটে অল্প পুঁজি নিয়ে নিজের মতো করে কিছুর করার উদ্যোগ নিলেই তরুণরা সফল হতে পারে। মনে রাখতে হবে, শুরুটা কখনো বড় কিছু দিয়ে হয় না। ছোট কিছু দিয়ে, অল্প অল্প করে শুরু করতে হয়। এভাবে একদিন বড় হওয়া যায়। উদ্যোক্তা হলে বরং আরও মানুষের কাজের সুযোগ করে দেয়া যায়। আমার আড়তে ও ফলের বাগানে অনেকেই এখন কাজ করে। তাদেরও কর্মসংস্থান হয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কংক্রিটের নগরে সবুজের কারিগর রকিবুল আমিনের গল্প

1

দেশের বৃহত্তম ভাসমান হাট বৈঠাকাটা

2

গারো পাহাড়ে লটকন চাষে নতুন সম্ভাবনা

3

ফ্ল্যাট বিক্রি করে এমপির স্ত্রীর সাথে প্রতারণা, কারাগারে ধান

4

বেড়ার শুশুক অভয়ারণ্য বিলুপ্তির পথে

5

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে বীজ সংরক্ষণাগার

6

টেকনাফের সংরক্ষিত বনে ৪০ হেক্টরের নতুন বাগান, চারা রোপণ প্রত

7

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনই বড় চ্যালেঞ্জ -কৃষিমন্ত্রী

8

কাঁঠাল থেকে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট

9

শরিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

10

শস্য ভান্ডারে যুক্ত হলো দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত

11

হারিয়ে যাচ্ছে গাব

12

দেশে খাদ্য মজুত ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করা হচ্ছে

13

৫৩ বছর দেশ শাসনকারীরা নতুন আশা দেখাতে পারবে না: চরমোনাই পীর

14

হর্টিকালচার সেন্টারে চারা-কলমের নতুন মূল্য নির্ধারণ

15

জুলাইয়ে এলো ৩৫ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

16

চা বাগান থেকে দুই অজগর উদ্ধার

17

কৃষি সচিবের রুটিন দায়িত্বে নাসির- উদ-দৌলা

18

রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কিনবে সরকার

19

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় গাছ বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্য স

20