নাটোর প্রতিনিধিঃ কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নির্মিত কোটি টাকার বীজ সংরক্ষণাগার (সিড স্টোর) ভবনগুলো বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় এখ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জরাজীর্ণ এসব ভবন একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের সেবা কার্যক্রম।
জানা যায়, কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষিসেবা, উন্নত বীজ সংরক্ষণ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেও ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার জন্য এসব বীজ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। বাতিপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে বাগাতিপাড়া সদর, পাঁকা, জামনগর ও দয়ারামপুর ইউনিয়নে এগুলো নিার্মণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ দীর্ঘদিন ভবনগুলো কার্যত অব্যবহৃত পড়ে থাকায় ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়,অধিকাংশ ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, দেওয়ালে ফাটল ধরেছে, খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। চারপাশে ঘন ঝোপঝাড় জন্মে ভবনগুলো পরিণত হয়েছে ভুতুড়ে বাড়িতে। কোথাও ভবন দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে চায়ের দোকান, আবার কোথাও বসেছে ক্যারাম খেলার আসর। ফলে কৃষিসেবার জন্য নির্মিত স্থাপনাগুলো এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ভিন্ন কাজে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের এই ভবনগুলো সচল থাকলে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সহজে পাওয়া যেত। সেইসঙ্গে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সহজতর হতো। ভবনগুলোর যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় সামান্য প্রয়োজনেও কৃষকদের ছুটতে হচ্ছে উপজেলা সদরে। ফলে কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ যেমন ব্যয় হচ্ছে, তেমনি প্রয়োজন হচ্ছে অতিরিক্ত সময়।
বাঁশবাড়িয়া এলাকার কৃষক রাজিবুল হাসান বলেন, চাষাবাদ-সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট কার্যালয় না থাকায় তারা কোথায় থাকেন, তা অনেক সময়ই জানাই যায় না। ফলে প্রয়োজন হলে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থের খরচ বেশি হয়। অথচ বাড়ির পাশেই একটি বড় ভবন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। ভবনটি চালু হলে কৃষকদের কৃষি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা সহজেই পাওয়া যাবে। পাশাপাশি যাতায়াতের খরচও কমবে। দ্রুত ভবন চালু করে কার্যক্রম চালু করার দাবি জানান তিনি।
বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের বীজ সংরক্ষণাগারগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পুরোনো ভবনগুলোর স্থলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে সেখানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসন, কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বীজ সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হবে। ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে কৃষি অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কৃ/স/জয়