টি এম কামাল,কাজিপুর(সিরাজগঞ্জ)থেকে : সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা ও ইছামতি নদীর চরাঞ্চল এখন নয়নাভিরাম সবুজের সমারোহ। নদীর তীরের উর্বর পলি মাটিতে বিভিন্ন জাতের সবুজ ফসল বিপ্লবের হাতছানি দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ গাছপালার মধ্যে নানা রকম পাখির কলতানে মুখরিত নদীর দুই তীর। উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে চলা যমুনা ও ইছামতি নদীর বুকচিরে একসময় পালতোলা বড় বড় নৌকা চলত। কালের পরিক্রমায় সেই নদী এখন আপন স্বকীয়তা হারিয়ে ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। নদীর দুই তীরে তাকালে শুধুই সবুজের সমারোহ।
দিনের পর দিন পলি মাটি জমে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় অতি দ্রুতই নদীর দুই তীর শুকিয়ে চাষ হচ্ছে মরিচ, ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, সরিষা সহ নানা ধরনের সবজি। ক্ষীণ ধারায় বয়ে যাওয়া নদীর দুই ধারে এখন কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা সতেজ ফসল বাতাসে দোল খাচ্ছে।
যমুনা ও ইছামতির চরাঞ্চলের কৃষকেরা অনেক বছর ধরেই বিভিন্ন প্রজাতির আবাদ করে আসছে। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বর্তমানে সকল প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। নদীর যে সকল স্থান আগেই শুকিয়ে গেছে সে সকল স্থানে ফসলের চাষ হচ্ছে পুরোদমে। কয়েক বছর আগে নদীতে প্রচুর পরিমাণে বালি ছিল কিন্তু এখন পলি পরে কিছু কিছু স্থানে বালি না থাকায় নদীর মাঝে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে।
উপজেলার পাঁচগাছি গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম ও জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে নদীর চরে আবাদ করতাম না কিন্তু বর্তমানে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় নদীর পানি দিয়ে ধানের চাষ করতাম কিন্তু এখন সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ধান তোলার আগেই নদীর পানি একেবারে শুকিয়ে যাচ্ছে শেষের দিকে আর পানি পাওয়া যায় না।
পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি প্রতি বছরই এই সময়টিতে নদীর দুই তীরে বিভিন্ন আবাদ করে থাকি।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীর চরের জমি খুবই উর্বর তাই ফসল উৎপাদনও বেশি হয়। ফলে কৃষকের মাঝে নদীর চরে ফসল ফলানোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষকেরা যাতে ভালো ফসল ফলাতে পারে সেজন্য কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এখন যমুনা ও ইছামতি নদীর চরে কৃষকেরা বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপাদন করে থাকে এবং আমরা কৃষি অফিসারের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছি। প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও নদী তীরের ফসলের বাম্পার ফলন হবে।
কৃ/স/জয়