কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মানিকগঞ্জে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ মরিচ চাষাবাদ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জে  টানা বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকদের মরিচক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষেতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় মরিচগাছ মারা যেতে শুরু করেছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক অপরিপক্ব মরিচ তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার চাষিরা। 

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টিতে জেলায় মরিচ, পেঁপে, বেগুন ও রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলের মোট ২২২ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৪ হাজার ৮৮৫ জন কৃষক। প্রাথমিক হিসাবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ছোট বোয়ালী, পশ্চিম কাফুরিয়া ও বড় বোয়ালী,এলাচিপুরচর, পূর্ব কাফুরিয়া, সহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির পর অনেক মরিচক্ষেতে এখনো পানি জমে রয়েছে। পানি জমায় জমির গাছ হলুদ হয়ে মারা যাচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, সাথে কথা বলে জানা গেছে, মরিচগাছ পানি সহ্য করতে না পারায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই মরিচ তুলে ফেলতে হচ্ছে তাদের। এতে তাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। 

হরিরামপুর উপজেলার আরেক কৃষক আরশের আলী বলেন, সংসারের প্রধান আয়ের উৎস ছিল মরিচের চাষ। বৃষ্টির পানিতে ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। একই উপজেলার জসিম উদ্দিন জানান, গাছে থাকা মরিচ পরিপক্ব হওয়ার আগেই তুলে ফেলতে হচ্ছে, না হলে সবই পচে যাবে।

শিবালয় উপজেলার ছোট বোয়ালী গ্রামের কৃষক হুমায়ুন মৃধা বলেন, এবার ছয় বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। পেঁয়াজ ও রসুনে লোকসান হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার বড় ভরসা ছিল মরিচের ক্ষেত। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানি সহ্য করতে না পেরে গাছগুলো নষ্ট হতে শুরু করেছে। সব মরিচ পরিপক্ব হওয়ার আগেই বাধ্য হয়ে শ্রমিক দিয়ে ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে ফেলছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, এই জমি থেকে অন্তত তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা ছিল। এখন সেই সম্ভাবনা প্রায় শেষ। উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। 

ঝিটকা হাটের আড়তদার কমল সরকার বলেন, মানিকগঞ্জের মরিচের চাহিদা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে। গুণগত মান ভালো হওয়ায় এ জেলার মরিচ সাধারণত ভালো দামে বিক্রি হয়। তবে টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে তাদের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এনে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ও সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাংবাদিকতায় আগ্রহীদের বরণ করে নিলো রাবি প্রেসক্লাব

1

সিসা দূষণ নির্মূলে জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার

2

চিনাবাদামে মানিকগঞ্জের কৃষকদের মুখে হাসি

3

ফ্ল্যাট বিক্রি করে এমপির স্ত্রীর সাথে প্রতারণা, কারাগারে ধান

4

১৫ জুলাই সব বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন

5

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

6

শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরি: তাহিরপুরে বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্

7

শেকৃবিতে খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল

8

বিদেশ নয়, এটা বাংলাদেশ,সমতলেই এখন সফল কমলা চাষ

9

চরের কৃষকের লড়াই ও সম্ভাবনার গল্প

10

প্লানিং কমিশনের সদস্যের বক্তব্য অবাক হয়ে শুনলেন সবাই ।। ড. ক

11

বন্যায় ক্ষত বিক্ষত কৃষি,মৎস্য,প্রাণী খাত

12

ঝালকাঠিতে চাই বুছনার বাজার এখন চাঙ্গা

13

সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল দাবি

14

সফল কৃষি উদ্যোক্তা ফেনীর রিপন চেয়ারম্যান

15

ক্ষুদ্র টিস্যু থেকেই উৎপাদন হচ্ছে রোগমুক্ত চারা

16

সমুদ্রে ওভারফিশিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে

17

ভবদহে ডুবেছে মাছের ঘের

18

চিরচেনা সাদা ভাতের পাতে উঠবে ব্ল্যাক রাইস

19

লেবু চাষে আমজাদের বাজিমাত

20