কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার বর্জ্যের দখলে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ দেশের প্রাচীন টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রবেশদ্বার এখন বর্জ্যের দখলে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও ডাম্পিং ষ্টেশন না থাকায় যেখানে সেখানে ময়লা আর্বজনা ফেলা হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী সহ বসতিরা। এতে দেখা দিয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি। 

জানা গেছে, ১৮৮৭ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় টাঙ্গাইল পৌরসভা। ২৯ দশমিক ৪৩ বর্গ কিলোমিটারের এই পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি। দীর্ঘদিনেও এখানে নির্মাণ করা হয়নি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শোধনাগার। শহরের সব ধরনের ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাবনা বাইপাস রাস্তার পাশে ও কাগমারী এলাকায় উন্মুক্ত স্থানে। প্রতিদিন এ স্থান দিয়ে উত্তর টাঙ্গাইলের ৬ উপজেলাসহ উত্তরবঙ্গের ১৬টি ও ময়মনসিংহের চারটি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। দুর্গন্ধ, বায়ুদূষণ, মেডিকেল বর্জ্য, জলাবদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকিÑসব মিলিয়ে শহরে প্রবেশের প্রথম অভিজ্ঞতাই এখন ভাগাড়ের।

দেখা যায়,রাবনা বাইপাস এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশমুখ কাগমারী শ্মশানঘাট এলাকার প্রধান সড়কের পাশে পৌরসভার ট্রলি ও ভ্যান দিয়ে দিনে-রাতে উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। মহাসড়ক ধরে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহনের যাত্রীরা নাকে রুমাল বা কাপড় চেপে এই এলাকা পার হন। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানের ময়লা ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে।

শুধু ময়লাই নয়। এসব স্থানে মরা গরু, মুরগীসহ পচা-বাসী খাবার ফেলার কারণে এখানকার পরিবেশ হয়ে উঠেছে অসহ্য। যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে নাকে কাপড় চেপে যাচ্ছেন। এতে দুর্গন্ধে নাক ধরে টাঙ্গাইল শহরে প্রবেশ করতে হয়। আশেপাশের মানুষও এই দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্যরে পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্ষতিকারক মেডিকেল বা ক্লিনিক্যাল বর্জ্য সরাসরি এই ভাগাড়গুলোতে উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়রা এখানে ময়লা ফেলানোর কারণে বাসা পরিবর্তন করছেন। দুর্গন্ধের কারণে তাদের বসবাস করা কষ্ট হয়ে পড়েছে। এখানকার টিউবওয়েলের পানিতেও দুর্গন্ধ বের হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা মোশের্দা বেগমবলেন, বৃষ্টি আসলে আমাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দুগন্ধে আমরা অসহ্য হয়ে পড়ছি। সকল ময়লা আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। পৌরসভা থেকে কোনো ব্যবস্থা করে না। আমাদের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়। পানি খাওয়া যায় না। এভাবে কি মানুষ বসবাস করা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী জানান‘আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য বড় প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পেঁপে আর মাছ চাষে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা ঈশ্বরের

1

সারের অনিয়ম-দুর্নীতিতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’- কৃষি সচিব

2

কপোতাক্ষের পাড়ে ময়লার ভাগাড়

3

কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও ছাড়

4

শোলমারী নদী এখন মরা খাল

5

প্রতিযোগী দেশের সাথে টিকে থাকা দায় দেশীয় স্পিনিং শিল্পের

6

কৃষকের ২২ বিঘা জমির ১৩ হাজার কলাগাছ কর্তন

7

তরমুজ চাষে জাকিরের বাজিমাত

8

সার সংকটের প্রতিবাদে কৃষকদের বিক্ষোভ

9

শামুকখোলের বাসা ডিম ভাঙায় মামলা দেবে বন বিভাগ

10

২৫ জনে চলছে জেলার প্রাণিসম্পদ সেবা

11

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’,

12

কাঁচা মরিচের দাম করতে শুরু করেছে

13

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

14

৫৩ বছর দেশ শাসনকারীরা নতুন আশা দেখাতে পারবে না: চরমোনাই পীর

15

এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা

16

৬ বছরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

17

গোলা ভরা ধান, তবুও ফিকে কৃষকের স্বপ্ন

18

পোলট্রি খামারিরা খাবার-ওষুধের দামে দিশাহারা

19

পতিত জমি চাষাবাদে আনতে বিএডিসির উদ্যোগ

20