রাজশাহী সংবাদদাতাঃ
রাজশাহী দুটি ব্যস্ততম এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা পলীক্ষায় শত ডেসিবল অতিক্রম করেছে। নগরীর রেলগেট এব মেডিকেল কলেজ লক্ষীপুরে এ এ পলীক্ষা চালানো হয়। এই শব্দ দূষণ জনস্বাস্থ্য ও নগর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শব্দদূষণবিরোধী লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মানববন্ধনের আয়োজন করে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা । তারা রাজশাহী সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চালক ও নগরবাসীকে সম্মিলিতভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় ‘অপ্রয়োজনে হর্ন নয়’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে এই সংস্থার উদ্যোগে রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট এলাকায় শব্দ দূষণ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গড় মাত্রা পাওয়া যায় ১০১.৫ ডেসিবল। আর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন লক্ষীপুর মোড়ে পাওয়া যায় ১০২.৬ ডেসিবল। উভয় স্থানেই সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা ছিল প্রায় ৯৭ ডেসিবেল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উভয় এলাকাতেই শব্দদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ পরীক্ষার নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী মো. জকির হোসেন খান সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবীরা। এই সংস্থাটির পক্ষ থেকে ২০২২ সাল থেকে এই পলীক্ষা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য,এর আগে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের সর্বাধিক এবং রাজশাহীকে বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক শব্দদূষিত শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে রাজশাহীতে শব্দমাত্রা প্রায় ১০৩ ডেসিবেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের পরিমাপ রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণের উচ্চমাত্রার বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার শব্দু দূষণ পলীক্ষার প্রধান পলীক্ষক মো. জাকির হোসেন খান জানান, রাজশাহী মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত অটো ও অযথা হর্ন অন্যতম কারণ। এ জন্য হর্ন নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ ছাড়া শব্দদূষণ শুধু মানুষের জন্য নয়, জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
কৃ/স/জয়