মাদারীপুর সংবাদদাতাঃ
মাদারীপুরে জেলে পরিচয়ে কার্ড নিয়ে অন্য পেশার মানুষের সুবিধা নেবার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে এ সুবিধা নিচ্ছেন এক শ্রেণীর মানুষ যা নিয়ে চরম ক্ষোবের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়,জেলার শিবচর উপজেলায় সরকারি তালিকায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪২ জন। তবে তালিকায় থাকা এসব জেলের একটি বড় অংশ প্রকৃত মৎস্যজীবী নন বলে অভিযোগ করেছেন পদ্মাপাড়ের জেলেরা। তাদের দাবি, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জেলে পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সরকারি সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে। অণ্যদিকে নদী-নালা,জলাশয়ে মাছ শিকার করে চলা প্রকৃত জেলেরা এই সুবিধার তালিকায় স্থান পাননি।
চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ের কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের পরিবারের কয়েক প্রজন্ম ধরে মাছ শিকারই জীবিকার প্রধান অবলম্বন। নদীতে মাছ ধরা ছাড়া যাদের সংসার চালানোর অন্য কোনো উপায় নেই, এমন অনেক পরিবারই এখনও সরকারি জেলে তালিকার বাইরে রয়েছে। ফলে তারা নিয়মিত সরকারি খাদ্য সহায়তাও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রকৃত জেলেদের দাবী নতুন করে সরেজমিনে সচ্ছতার সাথে নতুন করে তালিকা করা হোক। সেই সাাথে ভূয়া জেলেদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, জেলে তালিকায় কোনো অপ্রকৃত জেলের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে এবং এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সেই নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইলিশ আহরণ ও মৎস্য পেশার সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রকৃত জেলেদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত জেলেদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান বলেন, জাল যার, তিনিই প্রকৃত জেলে। এর বাইরে অন্য কোনো পেশার ব্যক্তির জেলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকাটি পুনরায় যাচাই করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত জেলেদের তালিকাভুক্ত করা এবং অন্য পেশার কেউ থাকলে তাদের বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়