টি এম কামাল,কাজিপুর(সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ২০০ টাকার নিচে মিলছে না মাছ ও ব্রয়লার মুরগি। প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় এবং গরুর মাংসের কেজি ৭০০ টাকার আশপাশে। ব্রয়লার, পাঙাশ ও তেলাপিয়ায় লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়ছে চাপ। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে শুধুমাত্র গরুর মাংসের দাম।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে মাছে ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বেড়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়, আর ডিম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা হালি। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে পরিবর্তন নেই। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পুকুরে চাষ করা মাছ পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
সোনামুখী বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। সোনালি মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আজ প্রতি কেজি ২০০ টাকায় ব্রয়লার এবং ৩৩০ টাকায় সোনালি মুরগি বিক্রি করছি। বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় দামে তেমন ওঠানামা নেই।
মেঘাই বাজারে মাছ বিক্রেতা শুকলাল ও শুভ বলেন, আজকে মাছের দাম আগের মতোই। কিছু মাছের দাম সব সময় বেশি থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে। সেগুলোর দাম সব সময় বেশি। তবে পুকুরে চাষের মাছের দামও দিন দিন বাড়ছে। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়, এ জন্য বিক্রিও বেশি দামে করতে হয়। মাছের দাম বাড়ার কারণে আমাদের পুঁজিও বেশি লাগতেছে।
আরও দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম হালিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা টাকা। প্রতি কেজি গরুর মাংস কেজি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে খরচ করতে হবে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লে তার প্রভাব নিম্ন আয়ের মানুষের উপরে সরাসরি পড়ে। আমরা তো দেশি মুরগি বা পাকিস্তানি সোনালি মুরগি কিনে খেতে পারবো না। ব্রয়লার, পাঙাশ ও তেলাপিয়া আমাদের ভরসা। সেখানে দাম বাড়লে পকেটে টান পড়ে।
কৃ/স/জয়