কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁয় আম বাগানে আনারস চাষাবাদ

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় আম বাগানের ফাঁকা জায়গায় আনারাস চাষাবাদে সাফল্য পেয়েছেন এক চাষী। এতে আমের জেলায় এবার আনারস চাষের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন চাষী এবং কৃষি বিভাগ। 

জানা যায়, নওগাঁ জেলার পোরশা, সাপাহার ও পত্মীতলা উপজেলার মাটি দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ । এমন মাটি আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য বেশি উপযোগী। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ইতোমধ্যে এসব উপজেলার আম গাছের মাঝে ফাঁকা জায়গাগুলোতে এমবি-২ ও হানিকুইন জাতের আনারস চাষ হচ্ছে। কম খরচে অধিক ফলন হওয়ায় এই আনারস চাষাবাদ এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

পোরশা উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান সিদ্দিক জেলায় প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে সফল হয়েছেন। 

রায়হান সিদ্দিক জানান, ২০২৪ সালে জেলার বদলগাছী হর্টিকালচার থেকে ৩০০০ আনারসের চারা বর্ষার সময় রোপণ করি। এরপর আর সেচ দিতে হয়নি। শুরু থেকে গাছের আগাছা পরিষ্কার ও দুই-একবার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। কোনো প্রকার খরচ ছাড়া এসব আনারস ধরেছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার আনারস বিক্রি করেছি। আরো প্রায় এক লাখ টাকার আনারস বিক্রি করতে পারবো। তিনি বলেন, আগামীতে আরও বড় পরিসরে আনারসের বাগান করবো। 

তথ্যমতে আনারসের চারা প্রথমবার রোপণ থেকে ফল আসতে ১৫ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। অল্প জমিতে দুই ফসল পাওয়ায় কৃষকদের আয় ও জমির ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলন ভালো হওয়ায় জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আনারস সরবরাহ হচ্ছে। কম খরচে একবার চারা লাগিয়ে টানা কয়েক বছর ফলন পাওয়া যায়। এখানকার আনারস অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু। 

আম বাগানে সুমিষ্ট আনারস চাষের সাফল্য বরেন্দ্র জেলার অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন বার্তা বয়ে এনেছে। আম বাগানের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সাথী ফসল হিসেবে আনারস চাষ জেলার কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছে।  

মান্দা থেকে আনারস দেখতে আসা দর্শনার্থী ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুস সোবহান বলেন, ‘আমি শুনেছি এ জেলায় প্রথম আনারসের চাষ হয়েছে তাই দেখতে এসেছি। রায়হান ভাই তার ক্ষেতের আনারস খাওয়ালেন। খুবই মিষ্টি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজেও আনারসের চাষ করবো।’ 

পোরশা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামিরুল ইসলাম বলেন, আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে যে সুমিষ্ট আনারস চাষ করা যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রায়হান সিদ্দিক। তিনি জেলায় প্রথম আম বাগানের ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে আনারসের চাষ করেছেন। তার বাগানের গাছের গ্রোথ ভালো হয়েছে। তাই ফলগুলোও ভালো হয়েছে। এভাবে যদি জেলায় আম বাগানের পাশাপাশি আনারস চাষ করা যায়, তাহলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

কৃ/স/জয়


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন

1

আনারসের পাশে চাষ হচ্ছে কাজুবাদাম

2

আগাম শিমে বাড়তি লাভের আশা কৃষকদের

3

শিল্পবর্জ্যে বিপন্ন গাজিখালি নদীর পরিবেশ

4

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

5

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে শ্রীলঙ্কায় সার্কের আঞ্চলিক কর্মশাল

6

নদীতীরে কয়লা চুল্লিতে পরিবেশ বিপর্যয়

7

বিক্রয়কেন্দ্র না থাকায় সংকটে লতিরাজ কচুর সম্ভাবনা

8

বাদুড়ের ‘বাড়ি’

9

৩৮ কোটি টাকার সাপের বিষসহ গ্রেফতার ৪

10

বাগেরহাটে বাড়ছে চুইঝালের চাষ

11

সাতক্ষীরায় জব্দকৃত ঝিনুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত

12

হাতে খবরের কাগজ, চোখে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে ছুটছেন সংগ্রামী নার

13

হিমাগারের আলুতে ১৩৩ কোটি লোকসানের শঙ্কা

14

খাদ্য উৎপাদন বাড়ার নেপথ্যে কৃষির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্

15

সবজি-সালাদে মানবদেহের ক্ষতিকর কীটনাশকের উপস্থিতি

16

মিশ্র ফল চাষে চালক মিজানের বাজিমাত

17

তরমুজ চাষে কৃষক রফিকুলের মুখে হাসি

18

হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা

19

ফসলি জমিতে অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা

20