যশোর সংবাদদাতাঃ
যশোরের কেশবপুরের মাটিতে সৌদি খেজুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নুসরাত জামান লিজা নামে এক উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে তার বাড়ির আঙিনায় নানা জাতের সৌদি খেজুরের বাগান গড়ে তুলেছেন। যার প্রতিটি গাছে প্রচুর খেজুর ধরেছে। যা এ উপজেলার মাটিতে খেজুর চাষাবাদে অনেক চাষীর স্বাভলম্বী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়,উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামে ৬ বছর আগে নিজবাড়ির আঙিনায় সৌদি খেজুর গাছ লাগান তরুন উদ্যোক্তা নুসরাত জাহান লিজা। ফেসবুক ইউটিউব ঘেটে তিনি বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে এ বাগান গড়ে তোলেন। যেখানে ৩৫ থেকে ৪০টি খেজুর গাছ রয়েছে। বাগানে মরিয়াম, আজওয়াসহ আরও কয়েকটি জাতের সুস্বাদু খেজুরের গাছ বেশ বড় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গাছের কাঁদিতে কাঁদিতে ঝুলছে খেজুর। এসব খেজুর দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন।
নুসরাত জাহান লিজা ওই গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে এবং রবিউল ইসলামের স্ত্রী। লেখাপড়া ও সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজেকে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি সৌদি খেজুর চাষে ঝুঁকেছেন।
খেজুর বাগানের উদ্যোক্তা নুসরাত জাহান লিজা জানান, ছয় বছর আগে সৌদি আরব থেকে তাঁদের এক আত্মীয় হজ শেষে দেশে ফেরার সময় ওই দেশের খেজুর নিয়ে আসেন। তাঁকে সৌদি আরবের সেই খেজুর খেতে দিলে তিনি এর বীজ সংরক্ষণ করেন। পরে ওই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে বাড়ির আঙিনায় লাগানো হয়। বর্তমানে তিনটি গাছে ফলন এসেছে। এ ছাড়া অধিকাংশ গাছের গোড়া থেকে একাধিক চারা বা বোগ বের হয়েছে। এসব গাছের গোড়ায় ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহার করা হয়। তাঁর লাগানো গাছগুলোর মধ্যে গত বছর থেকে কয়েকটিতে ফলন আসতে শুরু করেছে। বাড়ির সামনে লাগানো প্রথম গাছটিতে চারটি কাঁদি ধরেছে। প্রতিটি কাঁদিতে ১০ থেকে ১২ কেজি খেজুর হবে বলে আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে খেজুরগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ অঞ্চলে প্রথম সৌদি খেজুর উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন নুসরাত জাহান লিজা। তাঁর সাফল্য দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে হলে আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এরপরই বলা যাবে, কেশবপুরের মাটি ও আবহাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে সৌদি খেজুর চাষ করা সম্ভব কি না।
কৃ/স/জয়