ফেনী সংবাদদাতাঃ
ফেনীতে সবর্ত্র প্রকাশ্য বিক্রি হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক সিলিকা মেশানো চিংড়ি মাছ। আড়ত থেকে এই মাছ চলে যাচ্ছে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের বাজারে। যা খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
জানা যায়, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা থেকে ফেনীতে প্রতিদিনই আসে বিভিন্ন জাতের বড় চিংড়ি। প্রতিদিন ভোরে ফেনীর সর্ববৃহৎ পৌর মাছের আড়তে চিংড়িবাহী ট্রাক থেকে দেড় থেকে দুই টন বড় জাতের চিংড়ি আনলোড করা হয়। এরপর মাছগুলো ফেনী শহরের বড় বাজার, রেলগেটসহ জেলার হাটবাজারগুলোতে চলে যায়। বড় সাইজের এসব চিংড়িতে খামার থেকে বিক্রির আগেই জেলি পুশ করা হয়।
আড়তদাররা জানান, অসৎ মুনাফালোভী খামারিরা সিলিকা পাউডার ও ভাতের মাড় মিশিয়ে ঘন আঠালো জেলি তৈরি করে। এরপর তা সিরিঞ্জের মাধ্যমে চিংড়ির মাথা ও শরীরের নরম অংশে পুশ করে। এসব মাছের মাথা ও শক্ত খোলসের সংযোগস্থলটি আলতো করে ভেঙে বা ফাঁক করে দেখলেই জেলির উপস্থিতি বোঝা যায়। প্রতি কেজি চিংড়িতে জেলি পুশ করে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন বাড়ানো যায়।
ইতোমধ্যে ফেনীতে এই বিশাক্ত জেলি মেশানো মাছ বিক্রি ধরা পড়েছে। শহরের বড় বাজারে এই মাছ কিনে প্রতারিত প্রবাসির অভিযোগে সেখানে অভিযান চালিয়ে চিংড়িতে জেলি মেশানোর প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় কয়েকজন মাছ বিক্রেতাকে প্রায় দেড় রাখ টাকা জরিমানা এবং জেলি মেশানো প্রায় দেড় শ’ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়।
ভোক্তাদের অভিযোগ, শুধু ফেনী শহরের বড় বাজার বা আড়ত নয়; ফেনীর কোথাও জেলি মেশানো ছাড়া চিংড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। এ চিংড়ি খেয়ে ভোক্তাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিল রোগ হলেও মৎস্য বিভাগ, ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকায় রয়েছে।
ফেনীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (পরশুরাম) সৈয়দ মোস্তফা জামান দাবি করেন, যেসব খামারে চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত করা হয়, সেসব স্থানেই মূলত অসাধু চক্র সিরিঞ্জ দিয়ে জেলি পুশ করে থাকে। তিি বলেন, ‘মৎস্য বিভাগ জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি ঠেকাতে নানা সময় অভিযান চালিয়ে মাছ জব্দ ও বিক্রেতাকে জরিমানা করছে। এ বিষয়ে মৎস্য দপ্তর সক্রিয় রয়েছে।
কৃ/স/জয়