রাজশাহী সংবাদদাতাঃ
রাজশাহীতে বাণিজ্যিকভাবে চুই ঝাল চাষাবাদ শুরু হয়েছে। অল্প খরচ,সহজ চাষাবাদ, বেশি লাভ হওয়ায় দ্রুতই বিভিন্ন জেলায় এর পরিধি বাড়ছে।
জেলার মোহনপুর এলাকায় শুরু হয়েছে চুই ঝালের বাণিজ্যিক চাষাবাদ। কৃষি বিভাগের সহায়তায় ২০২৪ সালে এখানে এর চাষাবাদ শুরু হয়। কয়েকজন চাষী এর মধ্যে ভাল লাভ করায় অন্যরা আগ্রহীী হয়ে উঠেছেন। এ এলাকায় আগে থেকে পানচাষাবাদ হয়। চুই ঝাল একই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়। যে কোন ঝোপঝাড়,গাছের নিচে এর চাষ করা যায়।
মোহনপুরের চান্দোপাড়ায় বাণিজ্যিকভাবে চুইঝাল চাষ করছেন আব্দুর রশিদ মোল্লা। তিনি বাড়ির পাশে আম গাছের নিচে ১০ শতক জমিতে এ চাষাবাদ করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে এর চারা সহ সাবির্ক সহযোগীতা দিয়েছেন।
আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন,এই অপ্রচলিত ফসলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে দামও ভালো। এর চারাও করা যাবে। আমি শিখেছি চারা করা। প্রথম চারা স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পান চাষের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর গাছও পানের মতো। এই জমিতে চুইঝালের গাছগুলো ভালোই রয়েছে। এ গাছের কোনো রোগবালায় নেই, তাই সতেজ হয়ে উঠছে। এখানে হালকা রোদ ও ছায়াযুক্ত জায়গা। এই আবহাওয়া চুইঝাল চাষের উপযোগী। সব মিলে ভালো হচ্ছে চাষ।
জানা যায়, চুইঝাল লতাজাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। যার কাণ্ড, শিকড় বা ডাল মাংস ও মাছের রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট জেলায় চুইঝাল জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী মসলা। রান্নায় এটি ব্যবহারের ফলে খাবারে চমৎকার ঝাঁঝালো স্বাদ এবং কড়া সুঘ্রাণ তৈরি হয়। যা সাধারণ মাংসের স্বাদকেও রাজকীয় করে তোলে। গরুর, খাসির বা হাঁসের মাংস ভুনায় মসলা কষানোর পর বা মাংস সেদ্ধের কিছুক্ষণ আগে চুইঝালের টুকরোগুলো দেওয়া হয়।
বাজারে মানভেদে শুকনা চুইঝাল বাজারে বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এটি কাঁচা এবং শুকনা উভয়ভাবেই বিক্রি করা হয়। চুইঝালের বিশেষ ওষুধি গুণ ছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ছাইয়্যেদা দিল ছালিন বলেন, চুইঝাল পরীক্ষামূলকভাবে দিয়েছিলাম মোহনপুরে। দেখলাম খুব ভালো হচ্ছে। নাটোরের দিকেও চুইঝালের চাষ হচ্ছে। মোহনপুর এলাকায় পানের চাষ ভালো হয়। চুইঝাল এবং পান দুইটার চাষ প্রায় একই। তাই আমরা মোহনপুরকে বেছে নিয়েছি। চুইঝালের বাজার খুব ভালো। দক্ষিণাঞ্চল বা ঢাকার দিকে চুইঝাল বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে স্পেশাল মাংস রান্না হয়। গরু, মহিষ, খাসি, মুরগি বা হাঁসের মাংসে স্পেশাল ভাবে চুইঝাল দিয়ে রান্না হয়।
রাজশাহীতে অল্প হলেও নাটোরে কয়েকজন চাষি চাষ করছেন। আমাদের এদিকে আম বাগান প্রচুর আছে। আমবাগান বা সুপারি, নারিকেল বাগানে পরগাছার মতো চাষ করা সম্ভব। এতে খরচ নেই বললেই চলে। আমরা আশা করছি, রাজশাহী অঞ্চলে দিন দিন বাড়বে চুইঝালের চাষ।
কৃ/স/জয়