পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী উপজেলায় বাড়ির আঙ্গিনায় উন্নত জাতের আম বাগান করে সফলতা পেয়েছেন মোশারফ হোসাইন নামে এক স্কুল শিক্ষক। বাগান থেকে রাসায়নিকমুক্ত নিরাপদ আম উৎপাদন করে তিনি বিক্রির পাশাপাশি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। তার বাড়ী বাউফল উপজেলার কালাইল ইউনিয়নের কর্পূরকাঠি গ্রামে।
জানা যায়,২০১৮ সালে সখের বশে কৃষি অফিস থেকে ২০টি উন্নত জাতের আমের চারা সংগ্রহ করে বাড়ীর পাশের জমিতে রোপন করেন ওই স্কুল শিক্ষক। ভাল আম পেলে সেখানে বাগানের পরিধি বাড়িয়ে হরেক রকম জাতের শতাধিক আমগাছ লাগান।
কৃষি বিভাগের দেওয়া বারি-৩ ও বারি-৪ জাতের চারা ভালোভাবে পরিচর্যা করায় তার বাগানে ব্যাপক আম ধরে। পাশাপাশি তার বাগানে বারি-১১, ফজলি, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, চ্যাংমাইসহ ৭ থেকে ৮টি উন্নত জাতের আমের ভাল ফলনে নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করছেন।
জাতভেদে প্রতি কেজি আম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রা ২৫ থেকে ৩০ মন আম বিক্রির আশা করছেন তিনি। তার দাবি, রাসায়নিকমুক্ত ও নিরাপদ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এসব আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শুধু বিক্রিই নয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্খীদের বাগানের উৎপাদিত আম উপহার দেন।
মোশাররফ হোসাইন বলেন, কৃষি উদ্যোক্তাদের সফল হতে সব সময় আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয় না। বরং সময়মতো কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে আমের মাছি পোকাসহ বিভিন্ন রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন জানান, কৃষি বিভাগ নিরাপদ ফল উৎপাদন ও নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে নিয়মিত কাজ করছে। মোশাররফ হোসাইনের মতো উদ্যোগী ব্যক্তিরা অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
কৃ/স/জয়