ডেস্ক রিপোর্টঃ টানা বৃষ্টিপাতের কারনে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি হয়নি।
রোববার চতুর্থ দিনের মতো জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার সাতটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর পাহাড়ধস এবং বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা যায়,গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে বান্দরবানে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা ও পাহাড়ধসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ চললেও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা হতদরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের অভিযোগ, সেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।
এদিকে জেলা শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, বাজারে মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ অনেক প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সকাল থেকে রুমা ও থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে বিকালের দিকে বন্যার পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের সার্বিক সহায়তায় প্রশাসন কাজ করছে। জেলাজুড়ে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।