কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মারা গেছে ১৫ কোটি টাকার মাছ

যশোর সংবাদদাতাঃ  
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অঙ্েিজন সংকটে একটি মৎস্য ঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামার মালিকেরা। যশোরের শার্শা উপজেলার সোনামুখো বিলে এ এফ মৎস্য খামারে এমন সমস্যায় শনিবার সকালে বিপুল পরিমাণ মৃত মাছ পানিতে ভেসে ওঠে।

জানা যায়, ২০০ বিঘার ঘেরটিতে প্রায় ৬০ লাখ পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি মাছে প্রায় এক কেজি ধরে মোট উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার মণ। প্রতি মণ মাছের বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা হিসাবে শুধু পাবদা মাছের আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি টাকা। অন্যান্য প্রজাতির মাছসহ সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা বলে দাবি তাঁদের।

খামার মালিকদের অভিযোগ, ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ঘেরে অঙ্েিজন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া যোগ হওয়ায় পানিতে অঙ্েিজনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়।

খামার মালিক আলফাজুল হক বলেন, ঘেরে থাকা মাছের বড় একটি অংশ বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। মাছগুলো বাজারজাত করার পাশাপাশি ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও চলছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অঙ্েিজন সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং বৈরী আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, মাছের খাদ্য বাবদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে তার প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বিপুল ক্ষতির পর সেই ঋণ পরিশোধ এবং পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

অপর খামারি ফারুক হোসেন বলেন, রাত ১টার পর বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে অঙ্েিজন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে যায়। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পরে পচতে শুরু করে। খামারটির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০টি পরিবার নির্ভরশীল বলেও জানান তিনি।

ঘের এলাকায় পানির ওপর অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও মাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম এক রাতেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের অভিযোগ, মাছের মড়ক শুরু হওয়ার পরও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেননি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় মৎস্যচাষিরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে উপজেলার অন্যান্য খামারেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অঙ্েিজন সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল বড় ঘেরগুলোতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে একই ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুন্দরবনে প্রাণ ফিরছে জীববৈচিত্র্যে

1

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে হরিপাশা খাল

2

হাওরের ধান যথাসময়ে কাটতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : কৃষ

3

হাওরে গোখাদ্যের সংকটে খামারীরা

4

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

5

মিল্ক ভিটার ৬৪৮ কোটির মেশিনারিজ কোন কাজেই আসছে না

6

‘নবীর ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়বিচারের আলোকে দেশ পরিচালনার সর্

7

৩৮ কোটি টাকার সাপের বিষসহ গ্রেফতার ৪

8

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

9

হাওরের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকা বিতরণ

10

সুন্দরবনের বিষযুক্ত চিংড়িসহ নৌকা জব্দ

11

মাশরুম চাষে জহিরুলের জীবনের বাঁক বদল

12

সংরক্ষিত বনভূমির জমিতে খামার-বাগান

13

পাকিস্তানে আনারস রপ্তানির অনুমোদন

14

দেশে সারের কোন ঘাটতি নেইঃ কৃষি মন্ত্রী

15

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

16

সাতক্ষীরায় কমেছে ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন

17

রংপুরে বায়োগ্যাসে লাভবান উদ্যোক্তারা

18

চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

19

ইসিফরজে প্রকল্পে ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

20