কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মাশরুম চাষে জহিরুলের জীবনের বাঁক বদল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাশরুম চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন জহিরুল ইসলাম নামে এক প্রবাস ফেরত উদ্যোক্তা। ঢাকার ধামরাইয়ের আড়ালিয়া গ্রামে এ চাষাবাদ করছেন। মাত্র ২শ’টাকা পুঁজি নিয়ে এ চাষাবাদে সফলতা পেয়ে এখন গড়ে তুলেছেন মাশরুমের রাজ্যে। প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা আয় করে ঘুরিয়েছেন নিজের ভাগ্যের চাকা। সৃষ্টি করেছেন অন্যদের কর্মসংস্থানের পথ। 

জানা যায়,উদ্যোক্তা জহিরুল ইসলাম এক সময় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দেশে ফিরে কোন কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি সাভার মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে এক দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সেই ছোট্ট প্রশিক্ষণই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সময়টা ২০১৭ সাল। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি নিজে এ অভিজ্ঞতায় ভাল কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামেন। প্রথমে মাত্র ২শ’টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি ১০ থেকে ১২টি স্পন কিনে মাশরুম চাষ শুরু করেন। তখন মাশরুম বিক্রি করতেন সাভারের বিভিন্ন ফার্মেসিতে। অল্প লাভ হলেও আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। ভাবতে থাকেন কিভাবে এটিকে বড় করে নিজের ভাগ্য বদলাবেন। 
কিছুদিন পর তিনি ১০ দিন মেয়াদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। পাশাপাশি এ প্রকল্পের সহায়তায় একটি শেড, একটি ভ্যানগাড়ি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পেয়ে পুরোদমে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষাবাদ শুরু করেন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিওে তাকাতে হয়নি। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এ চাষাবাদে সফলতা মুখ দেখতে পান।

জহিরুল এখন ১০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন মাষরুমে চাষাবাদের খামার।  এখন তাঁর খামারে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার স্পন। আর ৩০০টি বেড। যা থেকে তিনি প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ কেজি মাশরুম উৎপাদন করছেন। ৫জন কর্মচারী এই খামার দেখাশোনা করে। উৎপাদিত মাশরুম ২৫০টাকা থেকে ৪শ’টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। যা থেকে তিনি প্রতি মাসে এখন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করছেন। এরই মাঝে তার খামারে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাশরুম হয়েছে। 

জহিরুল জানান, ‘শুরুর দিকে প্রতিদিন এক-দেড় কেজি মাশরুম হতো। এখন ১৫ থেকে ২০ কেজি বিক্রি করি। বাজার নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। প্রতিদিন সাভারের মাশরুম সেন্টারে সরবরাহ দিই। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, মাশরুম চাষে কোনো বর্জ্য থাকে না। উৎপাদনের পর অবশিষ্ট উপকরণ আবার আদা ও অন্যান্য ফসলের জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকন জানান, বর্তমানে দেশের ৩৩টি হর্টিকালচার সেন্টার, মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং ১৬০টি উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০ উদ্যোক্তা এবং ১৮ হাজার দলভুক্ত চাষি তৈরি হয়েছে। নতুন ৩৫টি জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, ১৮টি উৎপাদন প্রযুক্তি এবং ২৫টির বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন,মাশরুম শুধু কৃষিপণ্য নয়; এটি পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির পথ দেখাচ্ছে। ওয়েস্টার, মিল্কি, কান ও ঋষি (রেইশি) মাশরুমের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ছে। অনেক উদ্যোক্তা এখন কৃষি পর্যটন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, টিস্যু কালচার ও রেস্তোরাঁভিত্তিক ব্যবসাও শুরু করেছেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হচ্ছে জামের রস

1

কক্সবাজারে বন্যা পাহাড় ধ্বসে মৃত ২৫ঃ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষি জমি

2

পেঁপে চাষে কোটি টাকার ব্যবসা সুমনের

3

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর : কী মধু প্রশাসন শাখায়?

4

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হার্ড লাইনে পরিবেশ অধিদপ্তর

5

‘বিএআরএফ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’র জন্য প্রতিবেদন আহ্বান

6

২ উপজেলার কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে

7

রাঙ্গামাটিতে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত

8

পাবিপ্রবিতে পরিবেশ রক্ষার নতুন বার্তা

9

তেলের দাম বাড়লো ৯০ ডলার

10

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত প্লাস্টিকে শ্বাসরুদ্ধ

11

২৬ হাজার কৃষকের ৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

12

জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর হর্টিকালচার

13

ইসলামপুরে পাট চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

14

আলো ছড়াচ্ছে যমুনাপাড়ের সোলার পার্ক

15

পটিয়ায় ভেসে গেছে ১৪শ’পুকুরের মাছ

16

রাজশাহী জেলায় আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষক

17

ক্ষুদ্র টিস্যু থেকেই উৎপাদন হচ্ছে রোগমুক্ত চারা

18

পেঁয়াজ সংরক্ষণে ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত

19

ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প

20