কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 15, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পটিয়ায় ভেসে গেছে ১৪শ’পুকুরের মাছ

পটিয়া (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধিঃ টানা বৃষ্টিপাত আর বন্যায় চট্রগ্রামের পটিয়া উপজেলায় প্রায় ১৪শ’ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে মৎস্য চাষীদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। 

জানা যায়,চট্রগামের পটিয়া উপজেলা মৎস্য ও পোনা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে শত শত বাণিজ্যিক মাছের খামার ও রেণু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পোনা সরবরাহ করা হয়।

এই খাতকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো পরিবার। কিন্তু এবারের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় সেই সম্ভাবনাময় মৎস্য খাত নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে পড়ে মাছ ও পোনা পাশের খাল, বিল ও নদীতে চলে গেছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে কয়েক মাসের লালন-পালন করা বাজারজাত মাছ।

এখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন রেণু উৎপাদনকারী খামারিরা।

মৎস্য বিভাগ জানায়,হাইদগাঁও, কেলিশহর, দক্ষিণ ভূর্ষি ও ধলঘাট ইউনিয়নে রেণু উৎপাদনকারী খামারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

অন্যদিকে খরনা, শোভনদণ্ডী, কচুয়াই, ছনহরা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা ও পটিয়া পৌরসভা এলাকায় বাণিজ্যিক মাছচাষিদের অধিকাংশ পুকুর পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। শুধু মাছ হারানোই নয়, পুকুরের বাঁধ, স্লুইস, জাল, পাম্প, খাদ্য ও অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ফলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বহু চাষি এক মৌসুমের পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছেন। পটিয়ায় মোট পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০, পুরো চট্টগ্রামের দুই-তৃতীয়াংশ নার্সারি পটিয়াতে। পটিয়া থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মাছ চাষিদের পোনা সরবরাহ করা হয়।

পটিয়া পৌরসভার হক ফিশারিজের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘এক রাতের বন্যায় আমার কয়েকটি পুকুরের প্রায় সব মাছ বেরিয়ে গেছে। শুধু মাছ নয়, পুকুরের অবকাঠামোও নষ্ট হয়েছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন করে উৎপাদনে ফেরা কঠিন।’

মৎস্যচাষি রকিব হাসান বলেন, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। বিক্রির সময় ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি দেব কিভাবে, সংসার চালাব কিভাবে—সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

পটিয়া উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এমন অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ঘটনা ঘটেনি। ফলে অনেক চাষির পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। যেসব পুকুর এখনো পুরোপুরি তলিয়ে যায়নি, সেখানে জাল বা বাঁশের বানা দিয়ে মাছ আটকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পর পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় মাছের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চাঁদপুরে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক সভা

1

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

2

ফেরত গেলো খাল খননের ১ কোটি ২২ লাখ টাকা

3

পরিবেশবান্ধব খাতা কলম তৈরি করছে প্রতিবন্ধী শরিফুল

4

দেশে ক্ষুদ্র কৃষকের বার্ষিক আয় ৩৪ হাজার টাকার কম

5

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

6

সুন্দরবনে শালপাতা মাছসহ ৬ জেলে আটক

7

বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান নিয়োগ পেলেন কৃষক দল সভাপতি তুহিন

8

মহাসড়কে ডিম ভেঙে খামারিদের প্রতিবাদ

9

ফুলবাড়ীতে মাল্টার বাম্পার ফলন

10

কুমিল্লায় আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনা

11

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বরাদ্ধ ২,২৪০ কোটি টাকা

12

২ উপজেলার কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে

13

যমুনার চরাঞ্চলে সবুজের সমারোহ

14

দিনাজপুরে এক হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার আম বিক্রি

15

অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে: দেবপ্রিয়

16

টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার বর্জ্যের দখলে

17

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

18

চড়ুইয়ের বাড়ি মহম্মদপুর

19

মডেশ চাকমার উদ্ভাবিত ‘ক্রপস ডক্টর’ ঘরে বসে ফসলের রোগ শনাক্ত

20