টুয়াখালী প্রতিনিধিঃ সবুজ বনায়নের ভেতরের ছোট ছোট খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ,কিট পতঙ্গের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে মহিষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
জানা যায়, রাঙ্গাবালী উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। প্রভাবশালী একটি চক্র বেশ কিছুদিন ধরে বনের খাল দখল করে মাছ শিকারের কারণে সাধারণ জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না। এসব খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ থাকায় জোয়ার-ভাটার সময় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সেখানে প্রবেশ করে। কিন্তু প্রভাবশালী একটি চক্র খালগুলোতে বাঁধ নির্মাণ করে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকার করছে। বাঁধ নির্মাণের জন্য বনের বড় বড় গাছ কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগের কতিপয় লোকজনে সাথে আতাত করে চলে এ কর্মকান্ড। উপকূলীয় বনায়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত অসংখ্য ছোট খাল এভাবে দখল নিয়েছে চক্রটি। এভাবে বিষ দিয়ে মাছ ধরায় বনাঞ্চলের খালের ছোট,বড় মাছ সহ পানিতে থাকা নানা জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। জোয়ারের সাথে বিষাক্ত পানি ছড়িয়ে অনেক প্রাণীও মারা যাবার ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম মিয়া বলেন, খালে বাঁধ দেওয়ার কারণে জোয়ারের পানি আটকে মহিষের মৃত্যু হচ্ছে। বিষ প্রয়োগের ফলে ছোট মহিষ মারা যায় এবং গাভীন মহিষের গর্ভপাতের ঘটনাও ঘটে। একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
মনজুর রহমান মৃধা নামে চর মাদারবুনিয়া এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, তিনি বনে ১৯টি মহিষ পালন করেন। গত ২১ জুলাই রাতে খালে নির্মিত বাঁধে আটকে জোয়ারের পানিতে তার প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি মহিষ মারা যায়। এ ছাড়া আরো ৩টি ছোট মহিষ নিখোঁজ রয়েছে তার।
এ অঞ্চলের একাধিক মানুষের সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মৌখিকভাবে খাল ব্যবহারের অনুমতি দেন। ফলে প্রতি বছরই একই ধরনের ঘটনা ঘটছে।
রাঙ্গাবালী সদর বিট কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান,বন বিভাগ কারো কাছে বাগান লিজ দেয়নি। মহিষ মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বনের ভেতরে নির্মিত অবৈধ বাঁধ দ্রুত অপসারণ করা হবে। গাছ কেটে যারা বাঁধ নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়
মন্তব্য করুন