কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সৌখিন মাছে রায়হানের রঙিন জীবন

নীলফামারী সংবাদদাতাঃ 
সখের বসে ঘরের শোভা বর্ধনে মাত্র ১০ টি রঙিন মাছ কিনেছিলেন। তা থেকে পোনা হয়ে সংখ্যা বেড়ে যায়। আর এ থেকেই চাষাবাদের আগ্রহ। এখন বাণিজ্যিকভাবে রঙিন মাছ চাষাবাদ করে পেয়েছেন সফলতার দেখা। এভাবেই রঙিন মাছ চাষের উদ্যোক্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ বাজার এলাকার আবু রায়হান।

এখন বাড়ির উঠানে তৈরি ৩৬টি পাকা চৌবাচ্চায় ৩০ প্রজাতির রঙিন মাছ চাষ করছেন। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ। সেখান থেকে তিনি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। এই চাষাবাদ শুরুর চার বছরে তিনি পরিণত হয়েছেন সফল উদ্যোক্তা। ২০২০ সালে ৫শ’টাকা দিয়ে ১০টি রঙিন মাছ কেনেন এই উদ্যোক্তা। যার ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার পর আগ্রহ নিয়ে জড়িয়ে পড়েন এই চাষাবাদে। 

ঊাড়ির উঠানজুড়ে বর্তমানে তার খামারে রয়েছে মিঙ্গাপ্পি, শর্টটেইল, রেডটেইল, প্লাটিনাম ডাম্বু, ইয়ার অ্যালবাইনো কই, কই টঙ্েিডা, ব্লু হেড সামুরাই, রেড মস্কো, স্নেক স্কিন গাপ্পি, কোবরা, ব্ল্যাক বেলুন মলি, হোয়াইট বেলুন মলি, জেবরা, গ্লো টেট্রা, মুনটেইল মলি, কই কার্প, কমেট কই ও মিকি মাউস প্লাটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছ। রঙিন মাছ বিক্রির জন্য তার নিজের একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। তার নাম রঙিন মাছের খামার নীলফামারী। ওই পেজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা যোগাযোগ করেন। জেলার সৈয়দপুরের পাইকাররা তার কাছ থেকে পাইকারি দামে মাছ কিনে নিয়ে যান। প্রজাতি ও আকারভেদে প্রতিটি মাছ ১০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অঙ্েিজনযুক্ত ব্যাগে এসব মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন তিনি। এভাবে মাছ বিক্রি করে প্রতি মাসে তিনি ৪০ হাজার টাকার মতো আয় করছেন। যা দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

উদ্যোক্তা রায়হান ইসলাম বলেন,আমার এমন কিছু করার ইচ্ছা ছিল, যেখানে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়। রঙিন মাছ চাষে আমি দুটোই পাচ্ছি। ব্যাবসার পাশাপাশি এটি করতে তেমন কষ্টও হয় না। বৃহৎ পরিসরে শুরু করার ক্ষেত্রে পরিবারের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছে। অনেকটা শখ ও আনন্দের মধ্য দিয়েই খামারটি পরিচালনা করছি। শুরুর সময়ে মাছগুলো নিয়মিত বাচ্চা দিতে শুরু করলে আমার আগ্রহ বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে মাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তখন রঙিন মাছের একটি খামার করার স্বপ্ন দেখি। বলতে গেলে রঙিন মাছ পালনের নেশায় পড়ে যাই। এখন আমার খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। এগুলো আমাকে যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি করেছে।

নীলফামারী সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এই খাতে রায়হানের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছেন। বিদেশেও রঙিন মাছের চাহিদা রয়েছে। মাছ চাষে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন করা হবে-প্রধানমন্ত্রী

1

খাগড়াছড়িতে ২৪টি গুইসাপসহ নারী আটক

2

রেণুপোনায় ভাগ্য বদলাচ্ছে তাদের

3

কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও ছাড়

4

হাওরে ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশ

5

জলাবদ্ধতায় নষ্ট শত শত একর জমির সবজি

6

পাখিদের বহুতল বাড়ি

7

কাঁঠাল বীজ থেকে খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান প্রযুক্তি উদ্ভাবন

8

পুকুরে পাট জাগ দিতে বিঘায় নেয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা

9

ইটভাটায় কোনভাবেই ইট পোড়ানো যাবে না-পরিবেশমন্ত্রী

10

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

11

বজ্রপাতে প্রাণ গেলো বাবা ছেলের

12

জয়পুরহাটে সোনালি মুরগির আঁতুড়ঘই এখন অন্ধকারে

13

সুনামগঞ্জে ৪৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

14

রাজশাহীতে বেড়েছে পাটের আবাদ

15

হাওরে দুইবার ভুট্টা ঘাস চাষের উদ্যোগ

16

কাঠলিচু চাষে মনিরুজ্জামানের ব্যাপক সাফল্য

17

দেশে ক্ষুদ্র কৃষকের বার্ষিক আয় ৩৪ হাজার টাকার কম

18

পাবনায় আধুনিক সংরক্ষণাগারেও পঁচে যাচ্ছে পেঁয়াজ

19

পদ্মার ২ বাঘাড় বিক্রি হলো সোয়া লাখ টাকা

20