কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গ্রিসে স্ট্রবেরি খাতে বাংলাদেশিদের দাপট

কৃষি সময় ডেস্কঃ 
গ্রিসের কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ‘লাল সোনা’খ্যাত স্ট্রবেরির অবস্থান ক্রমেই শক্ত হচ্ছে। আর এ শিল্পের পেছনে নীরবে বড় ভূমিকা রেখে চলেছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। পশ্চিম গ্রিসের ইলিয়া অঞ্চলের নয়া মানোলাদা ও আশপাশের এলাকায় বছরের পর বছর ধরে দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে স্ট্রবেরি চাষের বড় একটি অংশ। কিন্তু ইউরোপের বাজারে এ ফলের চাহিদা বাড়লেও এর পেছনে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের যে অবদান তার যথাযথ সামাজিক ও আর্থিক স্বীকৃতি নেই। তাই তারা এখন কৃষিকাজ ছেড়ে হোটেল ও পর্যটন খাতের দিকে ঝুঁকছেন। জার্মানির একটি গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদনে নয়া মানোলাদা এলাকায় কৃষিকাজে নিয়োজিত অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বাস্তবে অন্তত ১০ হাজারের মতো বাংলাদেশি এই খাতে কাজ করছেন। তাদের বড় অংশই স্ট্রবেরি চাষের সঙ্গে যুক্ত। তবে গ্রিসের স্ট্রবেরি শিল্পে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই শ্রমবাজারে নতুন পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে শ্রমিকপ্রাপ্তি। বৈধ কাগজপত্রধারী অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক এখন কৃষির বাইরে পর্যটন, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ তুলনামূলক ভালো কর্মপরিবেশের কাজ বেছে নিচ্ছেন। ফলে স্ট্রবেরি চাষের মতো শারীরিকভাবে কঠিন ও মৌসুমি কাজে শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।  একসময় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক এ অঞ্চলের প্রধান শ্রমশক্তি ছিলেন। তাদের একটি অংশ ২০২৪ সাল থেকে বৈধ কাগজ পাওয়ার পর অন্য খাতে চলে যাওয়ায় কৃষকদের এখন নতুন শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বাংলাদেশিদের পাশাপাশি নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে আসা শ্রমিকরাও এখন এ অঞ্চলের কৃষিকাজে যুক্ত হচ্ছেন।

এদিকে গ্রিসের স্ট্রবেরি বহু বছর ধরেই উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই লাভজনক শিল্পের সামনে এখন দুটি বিপরীত চিত্র। একদিকে ইউরোপের বাজারে গ্রিক স্ট্রবেরির চাহিদা, অন্যদিকে মাঠে শ্রমিকসংকট। সম্প্রতি মানোলাদা নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের চাপ, গাদাগাদি করে বসবাস এবং অনিশ্চিত জীবনযাপনের বিষয়ও উঠে এসেছে। অর্থাৎ কৃষি উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর সঙ্গে শ্রমিকদের জীবনমানের প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করলেও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের অনেকেই থাকেন খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে বা স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় ‘পারাঙ্গা’। এটি এক ধরনের অস্থায়ী ঘর। যেখানে প্রায়ই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। 

কৃষি খাতে নিয়োজিত মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে এখানে স্ট্রবেরির কাজ করছি। মৌসুমে ভোর থেকে মাঠে যেতে হয়। কাজ কষ্টের হলেও অনিয়মিত বাংলাদেশিদের জন্য এ খাত এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাগজপত্র হয়ে গেলে অনেকে কৃষির বদলে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বান্দরবানে পহাড়ধস বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন

1

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

2

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

3

কুমিল্লায় হাসপাতাল ঘরবাড়ীতে পানি

4

নদী দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই

5

খাদ্য উৎপাদকদের ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক

6

ভারত থেকে আসতে শুরু করেছে কাঁচামরিচ

7

গারো পাহাড়ে লটকন চাষে নতুন সম্ভাবনা

8

টানা পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা

9

সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সব করা হবে-পরিবেশ, বন ও

10

হিমাগার সংকটে ধুকছে সৈয়দপুর শুটকি মোকাম

11

আধুনিক কসাইখানা হলে মাংস রপ্তানি বাড়বে

12

রাবির বৃত্তি তহবিলে ভূমিমন্ত্রীর ১০ লাখ টাকার অনুদান

13

আট আগ্রাসনে ধুঁকছে সুন্দরবন

14

মহেশপুরে রাস্তার পাশে ময়লার ভাগাড়ে ভোগান্তি

15

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

16

আইএসও সার্টিফিকেশন অর্জন করলো সিনট্যাক্স গ্লোবাল

17

পেয়ারায় অ্যানথাক্স রোগে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ

18

শিল্পবর্জ্যে বিপন্ন গাজিখালি নদীর পরিবেশ

19

বৃষ্টির মতো উপর থেকে ফসলি জমিতে সেচ পদ্ধতি বিএডিসির

20