নীলফামারী প্রতিনিধিঃ সমতলের জমিতে মাল্টা চাষাবাদ করে আকাশ ছোঁয়া সাফল্য অজর্ণ করেছে বিশ^বিদ্যারয় শিক্ষার্থী ফরহাদুজ্জামান ফাহিম। সে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার মিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি ৩ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন মাল্টা বাগান। যেখান থেকে বছরে আয় করছেন প্রায় ১২ লাখ টাকা।
জানা যায়,ছোট বেলা থেকে উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন ছিলো ফাহিমের। সে কারনে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিজের পুকুরে মাছ চষাবাদ শুরু করেন। সফল হন তিনি। পাশাপাশি মনোযোগ দেন কৃষিকাজে। তবে জীবিকার প্রয়োজনে কৃষিকাজ করলেও পড়ালেখা থামিয়ে দেননি। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে অধ্যয়নরত।
এক শিক্ষকের ফল বাগান দেখে তিনি ইউটিবে ফল চাষাবাদের ভিডিও দেখে মাল্টা চাষাবাদের চিন্তা করেন। এরপর কৃষি অফিসের সহযোগীতায় তিন একর জমিতে মাল্টা চাষাবাদ শুরু করেন। সিলেট থেকে ‘বারি-১’ জাতের প্রায় ১ হাজার ২০০টি চারা সংগ্রহ করেন। প্রতিটি চারার দাম ছিল ২৬৫ টাকা। এরপর জমিতে চারা রোপণ করেন। এরপর তার মাল্টা গাছে কাঙ্খিত ফল আসতে শুরু করে। প্রতিটি গাছে এখন থোকায় থোকায় মাল্টা ধলে ঝুলে আছে।
একসময় পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত মাল্টা এখন সমতল ভূমিতেও চাষাবাদ করে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন ফাহিম।
এখন তার বাণিজ্যিক মাল্টা বাগানে রয়েছে এক হাজারের বেশি গাছ। মৌসুমজুড়ে গাছে গাছে ঝুলতে থাকে থোকা থোকা মাল্টা। এই বাগান থেকেই তিনি বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেন। তার এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার অনেক বেকার যুবকও এখন বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন।
ফাহিম জানান, তার মাল্টা বাগানে ভালো ফলনের জন্য প্রথম বছর কোনো গাছেই ফল রাখা হয়নি। কেবল পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি গাছে ফল রাখা হয়েছিল। সেই ফল দেখে তার মনে হয়, প্রকৃত মাল্টার রং ও গুণগত মান আরও উন্নত করা সম্ভব। এরপর কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিতে তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যান। সেখান থেকে ছয় প্রজাতির চায়না কমলার চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করেন। সেই গাছগুলোতেও ভালো ফলন এসেছে। এখন তিনি এই বাগান থেকে বছরে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করছেন। চিন্তা করছেন এই চাষাবাদের পরিধি বাড়ানোর
কৃ/স/জয়