কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সরকারি ভাল চাকরি ছেড়ে কৃষি খামার করে সফলতা পেয়েছেন ইখতেয়ার উদ্দিন আহমেদ মুন্না নামের এক তরুন উদ্যোক্তা। মাছ চাষ, মুরগি পালন, ষাঁড় গরু মোটাতাজাকরণ ও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে ইতোমধ্যে তিনি পেয়েছেন ব্যাপক সাফল্য। গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষি খামার। এই উদ্যোক্তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটেকী গ্রামে।
জানা যায়,এই তরুণ উদ্যোক্তা বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে শিক্ষকতা ও ব্যাংকের ভালো পদে চাকরি ছেড়ে এখন সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন। ‘এমএম এগ্রো’ নামের সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তিনি মাছ চাষ, মুরগি পালন, ষাঁড় গরু মোটাতাজাকরণ ও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনÑ এই ৪ খাত নিয়ে কাজ করছেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে কৃষিপণ্য সরবরাহের পাশাপাশি কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। ফলে খামারটি এলাকায় একটি সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এই খামারে মাছ চাষের পাশাপাশি খামারে ফাওমি জাতের মুরগি পালন করা হচ্ছে। খামারে প্রায় ২ হাজার ফাওমি মুরগি রয়েছে। উন্নত ব্যবস্থাপনার কারণে এসব মুরগি থেকে নিয়মিত ডিম ও মাংস উৎপাদন হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে।
গ্রামের বেকার ও শিক্ষিত তরুণদের কাছেও খামারটি হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার জায়গা। অনেকেই তার কাছ থেকে সমন্বিত কৃষি খামার পরিচালনার কৌশল শিখতে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রত্যন্ত গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে ওঠা এমএম এগ্রোতে রয়েছে ৪টি আধুনিক ফিশারি। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে ইতোমধ্যে সাফল্য পেয়েছে খামারটি।
এছাড়া খামারে অর্গানিক পদ্ধতিতে ষাঁড় গরু পালন ও মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। গরুর খাবারের জন্য খামারের নিজস্ব জমিতে ঘাস চাষ করা হয়। নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করে বছরজুড়ে গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছেন উদ্যোক্তা। খামারে উৎপাদন করা হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট।
গবাদিপশুর বর্জ্য ও বিভিন্ন জৈব উপাদান ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব এই সার তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হচ্ছে, অন্যদিকে জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, সমন্বিত কৃষি খামারটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনা বর্তমান সময়ে একটি টেকসই ও লাভজনক মডেল। এমএম এগ্রো শুধু একটি খামার নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার একটি কার্যকর উদ্যোগ। এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে গ্রামীণ অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এই খামারের উদ্যোক্তা ইখতেয়ার উদ্দিন জানান, বর্তমানে খামারটিকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ টন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের সক্ষমতায় গড়ে তোলা হচ্ছে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে শিগ্গিরই এটিকে পুরোপুরি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হলেও ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তাকে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। শুধু নিজের জন্য নয়, গ্রামের মানুষের জন্যও কিছু করতে চেয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস, কৃষিকে আধুনিকভাবে পরিচালনা করলে এটি লাভজনক খাতে পরিণত করা সম্ভব।
ভবিষ্যতে খামারের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মাছ, গবাদিপশু ও পোলট্রির পাশাপাশি নতুন কৃষিভিত্তিক প্রকল্প যুক্ত করে আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে-ই-আলম বলেন, এই উদ্যোক্তা বিভিন্ন খামার ঘুরে এসে এখন সফলভাবে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন।সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একটি খাতের উৎপাদিত উপকরণ অন্য খাতে ব্যবহার করা যায়। এতে উৎপাদন খরচ কমে, সম্পদের অপচয় কমে এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এমএম এগ্রো একটি সম্ভাবনাময় মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কৃ/স/জয়