পাবনা সংবাদদাতাঃ
বর্ষা মৌসুমে গাজনার বিলের মুক্ত পানিতে দেশীয় মাছের পোনা ছেড়ে মৎস্য চাষ করা গেলে স্থানীয়দের ভাগ্য বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উৎপাাদিত হবে বিপুল পরিমাণ মাছ। যা স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়েও সারাদেশে বাজারযাত করা যাবে। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব। এ জন্য দরকার সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা। বিশাল এ বিলটির অবস্থান পাবনার সুজানগর উপজেলায়।
সুজানগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিশাল এলাকাজুড়ে বর্তমানে গাজনার বিলের অবস্থান। এ বিলে প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষভাগ থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে বর্ষার পানিতে ভরপুর তাকে। তখন বিলটি পরিণত হয় বিশাল এক প্রাকৃতিক মুক্ত জলাশয়ে। পাশ্বর্বতী নদী,খাল ও জলাশয় থেকে পানির সাথে যে সামান্য মাছ আসে তাই এখানে বংশ বৃদ্ধি করে। তবে পরিকল্পিত বিশাল এই বিলে এই মৌসুমে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা গেলে বহুগুণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। যা স্থানীয়দের দেশী মাছের চাহিদা পূরণ সহ সারা দেশে সরবরাহ করা যাবে।
এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের আয় বাড়বে, মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং দেশের বাজারে দেশীয় মাছের যোগানও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাজনার বিলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক জলাভূমির বৈশিষ্ট্যও সংরক্ষণ করা সম্ভব।
মাছ চাষের জন্য এ বিলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রাকৃতিক খাদ্যভাণ্ডার। বিলের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ, ফাইটোপ্লাংকটন, জুপ্লাংকটনসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী মাছের খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বিলসংলগ্ন এলাকায় থাকা গবাদিপশুর বর্জ্য ও অন্যান্য জৈব উপাদান প্রাকৃতিক পুষ্টিচক্রের মাধ্যমে জলজ পরিবেশে জৈব পদার্থের যোগান দিতে পারে।
মৎস্য বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন,গাজনার বিলকে ঘিরে একটি বৈজ্ঞানিক, পরিবেশবান্ধব ও জনসম্পৃক্ত মৎস্য উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। সরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ যুক্ত করা গেলে গাজনার বিল শুধু সুজানগরবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যম নয়, বরং দেশের মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদে পরিণত হতে পারে।
এ বিষয়ে কৃষিবিজ্ঞানী ড. জয়নুল আবেদীন মনে করেন, গাজনার বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের একটি টেকসই মডেল তৈরি করা সম্ভব। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে সরকারি উদ্যোগে ১ থেকে ২ কোটি টাকার দেশীয় মাছের পোনা গাজনার বিলের উপযুক্ত এলাকায় অবমুক্ত করা হলে, অনুকূল পরিবেশে বর্ষার শেষে সেই মাছের বাজারমূল্য প্রাথমিক বিনিয়োগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে পোনা নির্বাচন, জলাশয়ের ধারণক্ষমতা নিরূপণ, রোগব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ মাছ শিকার নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
কৃ/স/জয়
মন্তব্য করুন