রাজশাহী সংবাদদাতাঃ
রাজশাহীতে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হিমাগার মালিকরা। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে হিমাগারের আলু রক্ষায় জ্বালানি তেলে জেনারেটর চালাতে গিয়ে মোটা অংকের টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে মালিকপক্ষকে।
জানা যায়,রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় ৩৭টি হিমাগারে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এবার ধারন ক্ষমতার অধিক আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে এসব হিমাগারে সংরক্ষণ করা বিপুল পরিমাণ আলু রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক হিমাগারে রাখা আলুতে ইতোমধ্যে পচন ধরেছে।
লোডশেডিংয়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকায় অবস্থিত তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়িভর্তি করে পচা আলু বের করে ফেলার চিত্র দেখা গেছে।
অনেক আলু চাষী এবং ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন,হিমাগার কর্র্তৃপক্ষ ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি আলু রেখেছেন। উৎপাদন বেশি হওয়ায় ও রাজনৈতিক চাপে বাধ্য হয়ে মালিকপক্ষ আলু সংরক্ষণ করেছেন। এতে আলু পচে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন,বিদ্যুৎ চলে গেলেও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগারের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। কিন্তু এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জ্বালানি তেল ব্যবহার করে জেনারেটর চালাতে হয়। এতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।মনিতেই হিমাগারগুলোর বিদ্যুৎ বিল অনেক বেশি। প্রতিটি হিমাগারকে মাসে প্রায় ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ যোগ হওয়ায় মালিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, গত বুধবার থেকে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো। হিমাগারে বিদ্যুৎ সংকটজনিত সমস্যা হচ্ছে-এমন অভিযোগ জানিয়ে কেউ তাঁকে ফোন করেননি বলেও জানান তিনি।
কৃ/স/জয়