কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ওডিস চাকমার মাশরুম বীজ যাচ্ছে সারা দেশে

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতাঃ 
খাগড়াছড়িতে মাশরুম উৎপাদনের ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন এক চাকমা নারী উদ্যোক্তা। শুধু মাশরুম নয়। এ থেকে স্পন বীজ উৎপাদন করে সারা দেশের উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করে তিনি ভাল টাকা আয় করছেন। মাত্র এক হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে মাশরুমের ফার্ম থেকে যাত্র শুরু করে এখন গড়ে তুলেছেন  বিশাল ফার্ম। যেখানে অন্য নারীদের এ কাজে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি।  সফল এ নারী উদ্যোক্তার নাম ওডিস চাকমা। তিনি জেলার সদরের পাকুয্যাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়,২০১২ সালে মাত্র ১ হাজার টাকা নিয়ে  ‘ছাবা মাশরুম এগ্রো ফার্ম’ নামে মাশরুম চাষাবাদ শুরু করেন এ উদ্যোক্তা। । তখন আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ কিংবা বড় ধরনের বিনিয়োগ কোনোটিই ছিল না। তবে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তিনি উদ্যোগটি সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে এ ফার্মের অন্যতম শক্তি নিজস্ব স্পন উৎপাদন ল্যাব। এখানে উৎপাদিত উন্নতমানের মাশরুমের বীজ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারটিতে অফ-সিজনে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি এবং মৌসুমে ৫০ থেকে ৬০ কেজি মাশরুম বিক্রি হয়। কখনও কখনও বিক্রির পরিমাণ ১০০ কেজিও ছাড়িয়ে যায়। 

মাশরুম তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের মাশরুম নিয়ে গবেষণাতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন ওডিস চাকমা। বর্তমানে সাত থেকে আটটি জাতের মাশরুম নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ করছেন। গরম মৌসুমের জন্য পিওটান (ভুটানিজ), ওসি, অ্যাভ্যালু ও ব্ল্যাক ইয়ার এবং শীতকালীন এসকে (হাইব্রিড) ও ওএস জাতের উৎপাদন ও উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করা হচ্ছে। পাহাড়ের আবহাওয়ার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উপযোগী ও অধিক ফলনশীল জাত নির্বাচন করে কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করাই তার লক্ষ্য।

পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিভিন্ন জাতের মাশরুম নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পাহাড়ে বিকল্প কৃষির সম্ভাবনাময় উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

গ্রামের ছায়াঘেরা পরিবেশে গড়ে ওঠা খামারটিতে মাশরুমের পরিচর্যা, স্পন তৈরি, সংগ্রহ ও প্যাকেটজাতকরণের কাজ করেন কয়েকজন নারী-পুরুষ। ওডিস চাকমার উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ খামারের নিজস্ব স্পন উৎপাদন ল্যাব রয়েছে। সেখানেই তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের মাশরুমের বীজ, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক নতুন উদ্যোক্তা এখান থেকে স্পন সংগ্রহ করে নিজেদের খামার গড়ে তুলছেন।

উদ্যোক্তা ওডিস চাকমা জানান, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অর্থায়ন পাওয়া গেলে উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে তার মাসিক গড় আয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তবে লাভের চেয়ে মানসম্পন্ন উৎপাদন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় সুপার ফুড এবং পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী কৃষিপণ্য। এ জেলায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সাতটি উপজেলায় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রম চলছে। ভাইবোনছড়ার উদ্যোক্তা ওডিস চাকমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সাভারের জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পদ্মায় বৈদ্যুতিক শক নিয়ে মাছ নিধন

1

মেঘনায় ধরা পড়ল ২৫ কেজির হিলা মাছ

2

পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে প্রশাসনের উদ্যোগ

3

আশার আলো ছড়াচ্ছে সবুজ ধানের চারা

4

ক্যাপসিকাম চাষে কৃষকের মুখে হাসি

5

ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

6

রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে বারি-৪ আম

7

পুকুরে বিষ দিয়ে ৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

8

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

9

বিষ প্রয়োগে ‘৮ লাখ টাকা’র মাছ নিধন

10

মিল্ক ভিটার ৬৪৮ কোটির মেশিনারিজ কোন কাজেই আসছে না

11

শৈলকুপায় অবৈধ সার মজুতে জরিমানা ও সার জব্দ

12

চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

13

কচুয়ায় কৃষকের জমির লাউগাছ কেটেছে দুর্বৃত্তরা

14

জলবায়ু-সহনশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলার আহ্বান স্পীকারের

15

মাচায় কুমড়া চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা

16

রাজশাহীতে প্লাস্টিক বর্জ্যে জলাবদ্ধতা

17

পাহাড়ে জুমের ধানকাটা শুরু

18

ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

19

জনবল সংকটে বন্ধ প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্র

20