কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সৌর সেচে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃ 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে এবার সোলার সেচ ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভাল। কৃষকরা বলছেন এবার তারা এই ধান চাষাবাদে ভাল ফলনের স্বপ্ন দেখেছেন। 

নবীনগর পৌরসভার দোলাবাড়ি, সাতমোড়া, রতনপুর ও সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড়শ বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি পড়ে ছিলো। এসব জমিতে এর আগে কখনো ধান চাষাবাদ হয়নি। কৃষি বিভাগ এই অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনার উদ্যোগ নেন। 

এর অংশ হিসাবে তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ প্রকল্পের অর্থায়নে সোলার সেচ স্থাপন করা হয়। যেখানে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ বারিড পাইপলাইনে কৃষিজমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এসব সুবিধা পেয়ে কৃষকরা আউশ ধান আবাদ করেছেন। একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমি এখন সবুজে ভরে উঠেছে।

এসব এলাকার মাঠ জুড়ে কৃষকদের জমিতে দুলছে সোনালি আউশ ধানের শীষ। প্রথমবারের মতো প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রিধান-৯৮ ও ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। যা বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষীরা। 

দোলাবাড়ির কৃষক বাবুল মিয়া জানান, আমি প্রথমবারের মতো ব্রিধান ৯৮ আবাদ করেছি। আর সপ্তাহখানেকের মধ্যে ধান কর্তন হবে, এখন পর্যন্ত মাঠের যা অবস্থা আমি অত্যন্ত আশাবাদী। এই বারিড পাইপের জন্য আমাদের সেচ নালা কাটার যে একটি কষ্ট সেটি শেষ হয়েছে, আগামীতে এই মাঠে আরও আউশ আবাদ বৃদ্ধি পাবে।

একই এলাকার আরেক কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারের সোলার সেচ স্কিমের কারণে এখন অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে আউশ চাষ করেছি। ফসলের অবস্থা খুব ভালো, আশা করছি বাম্পার ফলন হবে

চুওরিয়া গ্রামের কৃষক মন্নান মিয়া বলেন, গত বছরের ভালো ফলনের কারণে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেছি। আমার কাছ থেকে আরও কয়েকজন কৃষক বীজ সংগ্রহ করে আউশ চাষ করেছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাকায় এবার ফলনের সম্ভাবনাও অনেক ভালো।

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে সোলার সেচ স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়ীতে ৭৫ বিঘা জমি একসঙ্গে আউশ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। উন্নতমানের বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় দেড়শ বিঘা অনাবাদি জমিতে নতুন করে আউশ আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বোরো মৌসুম শেষে বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিগুলোকে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধানের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সারের অনিয়ম-দুর্নীতিতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’- কৃষি সচিব

1

গড়াই নদীতে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য, হুমকিতে পরিবেশ

2

কৃষি জমিতে বালুর স্তরে দিশেহারা কৃষক

3

ভেজাল সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

4

সরকারকে বিপদে ফেলতে পিক সিজনে নতুন সার ডিলার নীতিমালা জারি

5

৯৩ হাজার কোটি ঘাটতি নিয়ে এনবিআরের বছর পার

6

কাপাসিয়ায় গরু চুরির হিড়িক

7

পানি বাড়লেই বন্যা, কমলেই ভাঙন: আতঙ্কে কাজিপুরে লাখো মানুষ

8

এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা

9

আজও ৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

10

কাপাসিয়ায় দখলে দুষনে মৃত খাল

11

ফসলি জমিতে ইটভাটা বন্ধ করলো প্রশাসন

12

দোহারে রাস্তার পাশে ফেলা হচ্ছে ময়লা আর্বজনা

13

মাদারীপুরের চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন

14

এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

15

রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে বিক্ষোভে কৃষক

16

সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলনের আশা

17

ভাসমান নৌকা হাটে পাট কেনা বেচা জমজমাট

18

গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চূড়ান্ত ভর্তির সময় বাড়ল

19

বাঁশের পণ্য বিশ্ববাজারে পাঠাতে চান হাজীমুল

20