ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে ফরিদপুরের মধুখালীতে মরিচের গাছ মরে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ফলে বাজারে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় ৩ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে । এখন থেকে ৫ হাজার ৭০৬ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল । তবে টানা বৃষ্টিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খেতে মরিচ গাছ মওে পচে যাওয়ায় মরি দাম বেড়ে ৩শ’ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দওে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, মাঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মধুখালী উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মধুখালী এলাকার মরিচ চাষিরা জানিয়েছেন তাদের আর্থিক ক্ষতির কথা। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মরিচ চাষি রোকনউজ্জামান জানান, অতিবৃষ্টিতে সব মরিচ গাছ মারা গেছে। এখন বাধ্য হয়ে ক্ষেত তুলে ফেলতে হচ্ছে। এতে আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
ফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার বলেন, মাঠে মরিচ নেই, কিন্তু বাজারে মরিচের দাম বাড়ছেই। আশঙ্কা করছি, কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা না মিললে আগামী মৌসুমে মরিচ চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি করছি।
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী বলেন, চলতি মৌসুমে মধুখালী উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমিতে পানি ওঠায় মরিচ গাছ পচে ও মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে।
কৃ/স/জয়