কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খুলনায় সারের কৃত্রিম সংকট

খুলনা সংবাদদাতাঃ 
খুলনায় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। সারা না পেয়ে বাধ্য হয়ে কৃষকরা খোলা বাজার থেকে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। যা নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে অবৈধভাবে সার বিক্রির বিরদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলার দৌলতপুর ও লবণচরাসহ ৯টি উপজেলায় চলতি মাসের বরাদ্দের টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সার এখনো ডিলাররা উত্তোলন করেননি। বাজারে এখনো ইউরিয়া মজুত আছে ১৩৯২ টন। এ ছাড়া টিএসপি ১৩৩৮ টন, ডিএপি ৬৯৯ টন, এমওপি ৪৫৮ টন মজুত আছে। চলতি মাসে ইউরিয়ার ২ হাজার টন বরাদ্দের মাত্র ২৩৯ টন উত্তোলন করেছেন ডিলাররা। তবে মনিটরিংয়ের অভাবে একই সময় সরবরাহে ঘাটতি দেখিয়ে খুলনার কয়রাসহ বিভিন্ন স্থানে সার পাচার ও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। খুলনা বিভাগের যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া জেলায় একইভাবে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে চাষিদের।

বিভিন্ন এলাকায় টিএসপি ও ডিএপি সরবরাহে ঘাটতি থাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে যশোরে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। প্রতিকেজি টিএসপি ২৮ টাকা দামে বিক্রি করার কথা থাকলেও সংকট দেখিয়ে তা ৫০-৫২ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ২ আগস্ট বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে যশোরের দুই ডিলারকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৪ সেপ্টেম্বর কালোবাজারে বিক্রির সময় চৌগাছায় ১৫ বস্তা ইউরিয়া ও ডিএপি সার জব্দ করে ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বাগেরহাট জেলায় চাহিদার তুলনায় কম সার সরবরাহ করায় পাশের জেলা পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জে সারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এ জেলার চাষিদের। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৩৪ হাজার ৪৫০ টন ইউরিয়া সারে চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ মিলেছে ২৮ হাজার ২৬২ টন। একইভাবে ১৪ হাজার ৬৭২ টন টিএসপির চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১২ হাজার ৩৯০ টন। ডিএপির ১৩ হাজার ৪৮ টনের বিপরীতে মিলেছে ১১ হাজার ৮৯৯ টন ও এমওপি ৮ হাজার ৯১৮ টনের বিপরীতে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৭ হাজার ২৪৭ টন। চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।

মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত সার পাওয়া নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন,ডিলারের কাছে গেছে তাদের চাহিমা মাফিক সার পাচ্ছেন না। তারা সরবরাহ নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু একই এলাকায় খোলা বাজারে বাড়তি দাম হলেই পাওয়া যাচ্ছে সার। বাড়তি দামে সার কিনে চাষাবাদ করতে গিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে এক শ্রেনীর ডিলার সারের সংকট দেখিয়ে খোলা বাজারে সারা বিক্রি করে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই সার প্রাচার করে দিচ্ছেন।
তবে এসবের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা সহ ডিলাদের বিরুদ্ধে নিয়মতি অভিযান পরিচালনা ও মনিটরিং করছেন প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।  

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বিদ্যমান ডিলারের পাশাপাশি একজন করে ডিলার নিয়োগে প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় খুচরা পর্যায়ে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অভিযোগ উঠেছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৪০ বস্তা চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

1

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে বীজ সংরক্ষণাগার

2

ভেড়া পালনে আশিকের সাফল্য

3

অসময়ে মাচায় ঝুলছে তরমুজ

4

আদালতের নির্দেশে ২৮টি চোরাই গরু নিলামে বিক্রি

5

পাটবীজে শতকোটি টাকা সাশ্রয়

6

জনবলের অভাবে প্রাণিসম্পদের সেবা ব্যহত

7

৫০ হাজার চিংড়ি পিএল জব্দ

8

পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধ

9

বিষ দিয়ে ১২ লাখ টাকার মাছ নিধন

10

বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হচ্ছে জামের রস

11

প্রাণী,কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে মতিন

12

ইসলামপুরে পাট চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

13

হাজারো পাখির অকৃত্রিম বন্ধু বুদ্ধ

14

মাছ চাষে কালামের ঈশ্বনীয় সফল্য

15

১৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পেল মৎস্য পদক

16

শরীয়তপুরে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

17

সান্তাহারে পুকুর চাষকৃত তিন মণ পিরানহা জব্দ

18

অসময়ের টমেটো চাষে তিন গুণ লাভ

19

বরিশালে মৎস্য কেন্দ্র তিন দশক ধরে অচল

20