সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জে একই জমিতে সাথী ফসল হিসাবে বেগুন ও লাউ চাষাবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন লিটন মন্ডল নামে এক চাষী। তিনি সদর উপজেলার ধুকুড়িয়া গ্রামে ৪০ শতক জমিতে বিষমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব এ চাষাবাদ করে সাফল্য পেয়েছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অন্য কৃষকরাও এ চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
জানা যায়,কৃষি বিভাগের পরার্মশে কৃষক লিটন মণ্ডল ৪০ শতক জমিতে ‘নয়ন কাজল’ জাতের বেগুন ও সাথি ফসল হিসেবে লাউ চাষ করেন। তার খেতের সারি সারি বেগুন গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে বেগুন। সচেতন এই কৃষক তার জমিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ও সারের বদলে ব্যবহার করেছেন ভার্মি কম্পোস্টসহ নানা জৈব সার।
বেগুনের মূল খেতের পাশাপাশি জমির আইল ও সীমানাজুড়ে তিনি রোপণ করেছেন ‘হাজারি লাউ’। বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই প্রধান ফসলের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে লাউ থেকেও আসছে বাড়তি আয়।
একই জমি থেকে বেগুন এবং লাউ তুলে বিক্রি করে ভাল টাকা পাচ্ছেন এই কৃষক। এক খরচে দুই ধরনের সবজি উৎপাদন করে তিনি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন। ভাল ফলন পাওয়ায় অন্য কৃষকরাও এখন এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
কৃষক লিটন মণ্ডল জানান, খেত থেকে তিনি প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ মণ বেগুন তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আয় করছেন প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে এই মৌসুম শেষে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন এই সফল চাষী।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন জানান, জৈব পদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল বেগুন ও সাথি ফসল হিসেবে লাউ চাষ একটি লাভজনক উদ্ভাবনী উদ্যোগ। পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে লিটনকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃ/স/জয়