কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যশোরের জাপানি পার্সিমনের সাফল্য

যশোর সংবাদদাতাঃ 
যশোরের মাটিতে জাপানি পার্সিমন ফল চাষাবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন জুলফিকার সিদ্দিক নামে এক উদ্যোক্তা। তার বাাগানের গাছে গাছে ধরেছে প্রচুর ফল। যা এখানকার চাষীদের নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন।
 
জানা যায় চৌগাছা উপজেলার এই উদ্যোক্তা ২০২১ সালে নাটোর থেকে ২২ হাজার টাকাার টি পার্সিমন চারা কিনে রোপন করেন। পরর্বতীতে তিনি তার ৫ কাঠা জমিতে ৩০টি চারা লাগিয়ে পার্সিমন বাগান গড়ে তোলেন। এর মধ্যে ১৭টি গাছে এবার ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছের ডালে ডালে প্রচুর ফল ধরেছে। যা তুলে বিক্রি করছেন জুলফিকার। বর্তমানে প্রতি কেজি পার্সিমন ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যশোরের এক ফল ব্যবসায়ী ১০০ কেজি পার্সিমন পাইকারি দামে কিনে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও ফল নেওয়ার আগ্রহও জানিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। নতুন জাতের এ ফলের খবর শুনে দুর দুরান্ত থেকে লোকজন আসছে বাগান দেখতে। জুলফিকার বাগানে আসা দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে ফল খাওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন। 

শুধু ফল বিক্রি নয়। পার্সিমনের চারা উৎপাদন ও বিক্রিও করছেন জুলফিকার। প্রতি পিস চারা ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি করছেন তিনি। নার্সারিতে একসময় বিপুলসংখ্যক চারা তৈরি করলেও বেশিরভাগই মারা গেছে। বর্তমানে তার কাছে ৭০০ থেকে ৮০০টির মতো চারা রয়েছে।

বাগানের উদ্যোক্তা জুলফিকার সিদ্দিকী জানান,১৭টি গাছ থেকে এবার প্রায় ১৭ মণ পার্সিমন পাওয়ার আশা করছেন তিনি। বিদেশি জাতের তুলনায় বাগানের ফল কিছুটা ভিন্ন হলেও স্বাদ ও মানের দিক থেকে ভালো বলে দাবি তার। ফেব্রুয়ারি মাসে পার্সিমন গাছে ফুল আসে। এরপর আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে ফল খাওয়ার উপযোগী হয়। চলতি মৌসুমের ফলও দ্রুত বাগান থেকে তুলে নেওয়া হবে। পার্সিমনের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী হলেও কৃষকদের সতর্ক করেছেন এই উদ্যোক্তা। তার মতে, দেশে এখনও এই ফলের বড় বাজার তৈরি হয়নি। তাই শুধু বেশি দামে বিক্রির আশায় বড় পরিসরে চাষে নামা ঠিক হবে না।

চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন জানান, উপজেলায় ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, পেয়ারা, বরইসহ বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ হচ্ছে। এরই মধ্যে হিজলি গ্রামে পার্সিমন চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দিক উন্মোচন করেছেন একজন কৃষক। বর্তমানে যে জাতের পার্সিমন চাষ হয়েছে, সেটি খুব উন্নত জাত নয়। তবে যশোরের মাটিতে পার্সিমন চাষ সম্ভব- এ পরীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়েছে। সঠিক জাত নির্বাচন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করা গেলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত জাতের পার্সিমন চাষের সুযোগ রয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২ উপজেলার কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে

1

বালুতে ঢাকা পড়েছে আমন ক্ষেত

2

হাজারো পাখির অকৃত্রিম বন্ধু

3

মৎস্যবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনে ‘ইয়ং ফিশারিজ স্টুডে

4

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

5

কুড়িগ্রামে বাড়ছে জৈব সারের ব্যবহার

6

ভারত থেকে আসা ১১.৫০০ টন চাল ফেরত যাচ্ছে

7

পরিবেশবান্ধব খাতা কলম তৈরি করছে প্রতিবন্ধী শরিফুল

8

মিষ্টি কুমড়োর হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট

9

গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদন

10

মাগুরায় কৃষকের কলাগাছ কেটেছে দৃর্বৃত্তরা

11

ঢলে ৫শ’ হেক্টর জমির ফসল ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত

12

নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ জরিমানা

13

বন্যাপ্রাণীর রোপওয়ে নির্মাণ

14

রংপুরে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নীল চাষাবাদ

15

সুন্দরবনে হরিণের মাংসসহ আটক ২

16

কাজিপুরে সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ

17

রেণুপোনায় ভাগ্য বদলাচ্ছে তাদের

18

কাজিপুরে বাড়ছে লাভজনক কলার আবাদ

19

কেক বেকারি পণ্যের মান যাচাইয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি

20