কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কেক বেকারি পণ্যের মান যাচাইয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 
সারা দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া প্যাকেটজাত কেক ও বেকারি পণ্যের দীর্ঘ মেয়াদ নিয়ে জনমনে নানামুখী সংশয় ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব খাদ্যপণ্য দীর্ঘদিন মানসম্মত ও জীবাণুমুক্ত থাকে কিনা তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হবার দাবী উঠেছে। ইতোমধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তপক্ষের কাছে বিধি অনুর্যায়ী ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত মো. মাহবুব কবীর। জনস্বার্থে তিনি ওই আবেদন করেন। 

 দেশের বাজারে হরেক রকম দেশি-বিদেশি ও নামিদামি ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত কেক ও বেকারি সামগ্রী ব্যাপক হারে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের মোড়ক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রক্রিয়াজাত খাবারের ঘোষিত মেয়াদ বা ‘শেলফ লাইফ’ ২ মাস, ৩ মাস এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৬ মাস পর্যন্ত উল্লেখ করা থাকে। এর মধ্যে প্রাণ গ্রুপের ওয়ান্ডার লেয়ার কেক ও ওয়ান্ডার মাফিন কেক, অলিম্পিক সফট কেক, কিশোয়ান টুইন কেক, সাংহাই বেকারি ফ্রেশ মিল্ক ব্রেড, দান কেক ভ্যানিলা প্লেন কেক এবং কাজী ফার্মস কিচেন ভ্যানিলা মাফিন কেক অন্যতম। 

সাধারণত সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় বেকারি পণ্য দ্রুত পচনশীল হলেও মোড়কজাত এসব পণ্য কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ভালো থাকে, তা নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এই দীর্ঘ মেয়াদের পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

আবেদনপত্রে কেক ও বেকারি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রথমত, এসব খাবারে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভের ধরন ও পরিমাণ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন, বিএসটিআই নির্দেশিকা এবং আন্তর্জাতিক 'কোডেঙ্ অ্যালিমেন্টারিয়াস' এর অনুমোদিত সীমার মধ্যে রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, খাদ্যে কোনো ধরনের অননুমোদিত প্রিজারভেটিভ, ফুড অ্যাডিটিভস, নিষিদ্ধ কৃত্রিম রং কিংবা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। এছাড়া মোড়কে যে উপাদানসমূহের তালিকা দেওয়া থাকে, প্রকৃত খাবারে সেই একই উপাদানের সঠিক ব্যবহার রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পণ্যগুলো ঘোষিত পুরো সময়জুড়ে নিরাপদ ও খাওয়ার উপযোগী থাকে কিনা তা যাচাই করতে 'শেলফ লাইফ ভ্যালিডেশন টেস্ট' সম্পাদন করা জরুরি। বিশেষ করে পণ্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে (নিয়ার এঙ্পায়রি স্টেজে) বাজার থেকে খোলা নমুনা সংগ্রহ করে বিশেষ অণুজীব পরীক্ষা করা দরকার। 

এর মাধ্যমে টোটাল প্লেট কাউন্ট, ইস্ট অ্যান্ড মোল্ড কাউন্ট, কলিফর্ম বা ই-কোলাই, সালমোনেলা, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস এবং ব্যাসিলাস সিরিয়াসের মতো মারাত্মক রোগজীবাণুর উপস্থিতি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। একই সাথে এসব খাদ্যের আর্দ্রতা, ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি ও পিএইচ মান মেপে মেয়াদের বৈজ্ঞানিক সত্যতা যাচাই করা দরকার।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অনুমোদিত ল্যাবরেটরির মাধ্যমে বাজার থেকে নিরপেক্ষভাবে নমুনা সংগ্রহ করে এই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে জনস্বাস্থ্য রক্ষা পাবে। একই সাথে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মায়ের জন্য বাসার ছাদে আনার বাগান

1

রাবার ড্যামের ছিদ্রে ঝুঁকিতে চাষাবাদ

2

উল্লাপাড়ায় বাড়ছে আখ চাষাবাদ

3

মধ্যনগর সীমান্তে নৌকাসহ ২৮ গরু জব্দ

4

পটুয়াখালীতে ৫৪ কেজির তবল মাছ ধরা পড়েছে

5

টাঙ্গাইলে আখের ক্ষেতে ভাইরাস আক্রমণ

6

অভয়নগরে খিরা-শসা যাচ্ছে সারা দেশে

7

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে : মন্ত্রী

8

দুজন দিয়ে চলছে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম

9

উখিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়

10

সারের অনিয়ম-দুর্নীতিতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’- কৃষি সচিব

11

চাহিদার ৪ গুণ বেশি শাক-সবজি উৎপাদন রংপুরে

12

দাম নেইঃ পানের বরজ ভাঙছেন চাষী

13

বান্দরবানে খাদ্য সংকটে গাইড-মাঝি

14

হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা

15

এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা

16

পাবনায় আধুনিক সংরক্ষণাগারেও পঁচে যাচ্ছে পেঁয়াজ

17

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

18

পশুপাখির প্রতি শরীফের ভালোবাসা

19

সংকটের আশঙ্কায় বিকল্প উৎস থেকে ডিএপি সার আনতে উদ্যোগ

20