কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

২ উপজেলার কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে দুই উপজেলার কৃষকরের স্বপ্ন আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ দুই উপজেলা হচ্ছে ক্ষেতলাল ও কালাই । এখানকার শত শত বিঘা জমির আমন ধান তলিয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

জানা যায়, , চলতি মৌসুমে জয়পুরহাট জেলায় প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  জেলায় দুই বছর ধরে আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে টানা লোকসান গুনেছেন চাষীরা। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশায় এবার অনেকেই আমন ধানের আবাদে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু টানা দুদিনের ভারী বর্ষণে সেই স্বপ্নেও নেমে এসেছে নতুন বিপর্যয়। জেলার কালাই এবং ক্ষেতলাল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার শত শত বিঘা আমন ক্ষেত এখন পানির নিচে।

এর মধ্যে ক্ষেতলাল এবং কালাই উপজেলার প্রায় ১ হাজার ২শ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। 

এ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে যতদূর চোখ যায়, দেখা মিলছে শুধু পানিতে ডুবে থাকা আমন ক্ষেত। অনেক জমিতে দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, দ্রুত পানি না নামলে উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হবে এবং অনেক ক্ষেতেই পুনরায় রোপণ করতে হতে পারে।

কালাই উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের কৃষকরা চলতি মৌসুমে সাত বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেন। কয়েকদিন আগেও সবুজে ভরা সেই ক্ষেতে এখন কেবল থৈ থৈ পানি। পরিচর্যা, সার, বীজ ও শ্রমে গড়ে তোলা ফসল এক নিমিষেই ডুবে গেছে পানির নিচে।
এ গ্রামের কৃষকরা নিজেদের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, গত দুই বছর আলু বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। তাই এবার আমন ধানকে ঘিরেই ছিল পরিবারের নতুন আশা। কিন্তু টানা বর্ষণে সেই আশাও ভেসে যাচ্ছে।

কালাই উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, অতি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় আমনের জমিতে পানি জমেছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। পাশাপাশি জমিতে পানি দ্রুত নিষ্কাশন, প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় চারা রোপণ এবং রোগ বালাই দমনে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি শুধু পরামর্শ নয়, দ্রুত জমির পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পরপর কয়েক মৌসুমের লোকসানে অনেক কৃষকের পক্ষে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

কালাই উপজেলা কৃষি অফিসার হারুনুর রশিদ বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় আমনের জমি প্লাবিত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। পানি নেমে গেলে জমির অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষকদের সহায়তা করা হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৃষকের ৬০ শতক জমির কাঁকরোলগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্ত

1

কংক্রিটের নগরে সবুজের কারিগর রকিবুল আমিনের গল্প

2

অস্থায়ী রিং বাঁধে ৩৮ বছর ধরে কৃষকের ক্ষতি

3

ভারতের ডিমের রাজধানী

4

সেন্টমার্টিন মাস্টার প্ল্যানে ট্যুরিজমের আগে সংরক্ষণকে গুরুত

5

নীলফামারীতে ২৫০ বিদেশি ফল চাষে নতুন সম্ভাবনা

6

তালগাছ লাগানোই তার নেশা

7

দুজন দিয়ে চলছে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম

8

মৎস্য-প্রাণিসম্পদ উদ্যোক্তাদের তালিকা করা হবে-মৎস্য প্রাণিসম

9

পাট ছাড়িয়ে মজুরি দেয়া হচ্ছে পাটকাঠি

10

কৃষি খাতে স্থবিরতা

11

ঈদের ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অফিসে ফিরতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের

12

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে ৮৪০ হেক্টর জমির ধান

13

পেঁপে গাছ পঁচে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি

14

বর্জ্যে ভরা খালে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

15

গোলা ভরা ধান, তবুও ফিকে কৃষকের স্বপ্ন

16

স্থানীয় সরকার নয়, জাতীয় নির্বাচন আগে চায় বিএনপিসহ বিভিন্ন দল

17

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

18

নরসিংদীর কাকরোল চাহিদা মেটাচ্ছে সারা দেশে

19

চাহিদার ৪ গুণ বেশি শাক-সবজি উৎপাদন রংপুরে

20