বরিশাল প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন সংস্কার,খনন না হওয়ায় বরিশাল সিটি শহরের জিয়াসড়ক-হরিপাশা খালটি এখন মৃত প্রায়। ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। প্রায় ৫ দীর্ঘ এই খালটির দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে নানা অবৈধ স্থাপনা।
জানা যায,এই খালটি এক সময় সচল ছিল। এটি ছিল নৌপথ। শহরের পানি নিষ্কাশন হতো এই খাল দিয়ে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় গুরুত্বপূর্ণ খালটি ধীরে ধীরে দখল হতে থাকে। নগরীর জিয়াসড়ক থেকে নবগ্রাম-কুদঘাটা পর্যন্ত খালের দুই পাড় এখন দখলের কবলে। খালের বুকজুড়ে পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য আর কচুরিপানার স্তূপে পানি প্রবাহ থেমে গেছে। ঝড় বৃষ্টিতে এই খাল দিয়ে এখন পানি নিষ্কাসন খুবই কঠিন হযে পড়েছে। এতে খালের দুই পাড়ের বিভিন্ন মহল্লায় ঝড়-বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। চরম দূর্গন্ধ ছড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী আক্ষেপ করে বলেন, সচল খালটি এখন একদল প্রভাবশালী দখল করে ভবন নির্মাণ করেছে। বর্জ্যে আটকে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন জানান, বর্জ্য জমে থাকায় জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে এবং মশার উপদ্রব চরম আকারে বেড়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া ২০টি খালের তালিকায় এই খালটির নাম রয়েছে। আমরা খননের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বর্তমানে একনেকে বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে এই খালগুলো সংস্কার করা হয়নি। আমরা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে এবং অনুমোদনহীন ব্রিজ অপসারণে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব। আমি দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেব।
কৃ/স/জয়