খুলনা প্রতিনিধিঃ সুন্দরবনে জলজ প্রাণী রক্ষায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। শিকারিদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি খালের মুখে শক্ত কাঠের বেষ্টনী দিয়ে বন্ধ দেয়া হয়েছে। ফলে বনাঞ্চলে অপরাধীদের চলাচল সীমিত এবং মাছসহ জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হবে।
এই খালগুলো পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের অভ্যান্তরে। এগুলো হচ্ছে- চাঁদপাই রেঞ্জের মরা ভদ্রা, জিয়ার ভাড়ানী, খালেকের ভাড়ানী, হুলার ভাড়ানী, নওশেরখালী, চারাখালী ও সূর্যমুখী খাল এবং শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা খাল, তেড়াবেকা ও দাশের ভাড়ানী খাল উল্লেখযোগ্য।
বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবনের অসংখ্য ছোট খালের প্রধান সংযোগপথ হলো এই ‘ভাড়ানী’ খালগুলো। অসাধু চক্র এসব পথ ব্যবহার করেই গহীন বনে ঢ়ুকে বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাত। বর্তমানে দুই রেঞ্জের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই বেড়া দেওয়া হয়েছে।
দাশের ভাড়ানী খালে গিয়ে দেখা যায়, খালের প্রবেশপথে শক্ত কাঠের খুঁটি ও লোহার পেরেক দিয়ে মজবুত বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। খালের তলদেশ থেকে প্রায় ২০ ফুট উঁচু এই কাঠামোর কারণে কোনো নৌকা বা ট্রলার ওই খালে ঢ়ুকতে পারবে না। তবে এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কিংবা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে কিছু অসাধু চক্র গোপনে বনে ঢ়ুকে বিষ প্রয়োগে মাছ ও পোনা নিধন করে। তাদের যাতায়াত বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় জেলেরা। তারা বলছে,প্রজনন মৌসুমে এসব খালে মা-মাছ ডিম ছাড়ে। খালের মুখ বন্ধ থাকায় এখন মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হবে, যা ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।
কৃ/স/জয়