মাগুরা প্রতিনিধিঃ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর এলাংখালী ঘাটে গড়ে উঠেছে পাটকাঠি বাণিজ্য কেন্দ্র। এখান থেকে নদীপথে ট্রলারভর্তি পাটকাঠি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার শিল্পকারখানা ও কৃষিখাতে।
এক সময় গ্রামের মানুষের কাছে পাটকাঠির মূল্য ছিল রান্নার জ্বালানি। ঘরের বেড়া কিংবা শীতের আগুন পোহানোর উপকরণ হিসেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে সেই চিত্র। এক সময়ের অবহেলিত এই পাটকাঠিই এখন দেশের শিল্পকারখানা ও কৃষিখাতের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল।
এই চাহিদার কারনে মাগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাটচাষীদের কাছ থেকে পাঠকাঠি সংগ্রহ করেন। এরপর এগুলো মহাম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীপাড়ে এলাংখালী ঘাটে নিয়ে আসেন। এই নদীপাড়ের ঘাটের দুই তীরজুড়ে পাটকাঠি স্তুপ করে রেখেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এই ঘাটটি এখন পাটকাঠি বিক্রির মোকাম। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বড় ব্যবসায়ীরা পাটকাঠি কিনে বড় বড় নৌকা ও ট্রলারে করে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা এসব পাটকাঠি শিল্পকারখানা ও কৃষিখাতের ব্যবহারকারীদের কাছে বিক্রি করেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘাটজুড়ে পাটকাঠি বেচা-কেনা এবং ট্রলার,নৌকায় লোড আনলোড কাজে ব্যস্ত সময় পার করে শ্রমিকরা।
এখানকার পাঠকাঠি ব্যবসায়ী জাফর মোল্যা জানান, মাগুরা সদর, মহম্মদপুর ও নড়াইলের লোহাগড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ পাটকাঠি ৪৫০ টাকা দরে কেনা হয়। পরে সেগুলো এলাংখালী ঘাটে এনে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটি ট্রলারে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার মণ পর্যন্ত পাটকাঠি বোঝাই করে নদীপথে পাঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পারটেক্স মিলে প্রতি মণ ৫৫০ টাকা দরে পাটকাঠি বিক্রি করি। এছাড়া বরিশালের পানচাষিদের কাছে প্রতি কাউন (১ হাজার ৪০৮টি) ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি চালানে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ থাকে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, আগে পাটকাঠির তেমন দাম ছিল না। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যান। এতে পাট চাষের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে।
এলাংখালী ঘাটে কাজ করা শ্রমিক সাইদুল ইসলাম বলেন, মৌসুমে প্রতিদিন শত শত মণ পাটকাঠি ট্রলারে তুলি। এই কাজ করেই আমাদের সংসার চলে। এখানে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। এই নদীপথের বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মাঝি-মাল্লার জীবন-জীবিকা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, নদীপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা এবং এলাংখালী ঘাটে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে মাগুরার এই পাটকাঠির বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষক যেমন ন্যায্যমূল্য পাবেন, তেমনি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পিযুষ রায় বলেন, এক সময় পাটকাঠিকে কেবল জ্বালানি বা ঘরের বেড়া তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এর বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানায় জ্বালানি ও কাঁচামাল হিসেবে পাটকাঠির চাহিদা বাড়ছে। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের পানের বরজে পাটকাঠির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। ফলে কৃষকরা এখন পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিকেও একটি আলাদা অর্থকরী পণ্য হিসেবে দেখছেন। এতে তাদের অতিরিক্ত আয় হচ্ছে এবং পাট চাষে আগ্রহও বাড়ছে।
কৃ/স/জয়