শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ে দিন দিন বাড়ছে লটকন চাষ। কম পরিচর্যা, ভালো বাজারদর এবং লাভজনক হওয়ায় লটকন চাষে আগ্রহ বাড়ছে উপজেলার কৃষকদের মাঝে। এতে পাহাড়ের অনাবাদি,পতিত জমিতে লটকন চাষের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। উঁচু-নিচু পাহাড়ি ও বসতবাড়ির আশপাশে ছায়াযুক্ত পরিত্যক্ত জমির পাশাপাশি ছায়াযুক্ত স্থান লটকন চাষের জন্য উপযোগী। অতীতে এসব জমিতে তেমন কোনো ফসল হতো না। এখন লটকন চাষ করে লাভবান হচ্ছেন পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা।
ঝিনাইগাতী উপজেলার ভারুয়া গ্রামের চাষী হামিদুল্লাহ ২০০৭ সালে নরসিংদীতে তার চাচার লটকন বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হন। পরে তিনি নিজ বাড়ি সংলগ্ন পতিত জমিতে উচ্চ ফলনশীল লটকনের চারা রোপণ করেন। তিনি। ২০১৪ সাল থেকে তিনি এখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে লটকন বিক্রি শুরু করেন। এরপর পরিধি বাড়িয়ে তিনি ৬৫ শতক জমিজুড়ে বাগানের পরিধি বাড়ান।
চলতি মৌসুমে তার বাগানের প্রতিটি গাছেই লটকনের অধিক ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ৬ থেকে ৮ মণ লটকন ধরেছে। চলতি বছর তিনি বাগান থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার লটকন বিক্রি করেছেন।
লটকন চাষী হামিদুল্লাহর জানান, লটকন চাষ তুলনামূলকভাবে সহজ ও লাভজনক। বছরে এক থেকে দুইবার সেচ এবং গাছের গোড়ায় জৈব সার ব্যবহার করলে গাছে প্রচুর ফলন আসে। এছাড়া ফল ধরার সময় পোকার আক্রমণ হলে সামান্য কীটনাশক প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যায়। তাই লটকন চাষে বাড়তি খরচ বা পরিশ্রম ছাড়াই দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।
আহমেদনগর গ্রামের লটকন চাষী মোহাম্মদ মুজাহিদ বলেন, গারো পাহাড় অঞ্চলে লটকন এখন একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে পরিচিত। আগে এ পাহাড়ি এলাকার অনেক জমি অনাবাদি বা কম উৎপাদনশীল ছিল। এখন সেই জমিতেই লটকনের বাগান গড়ে উঠছে এবং কৃষকরা ভালো আয় করছেন।
জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে সরাসরি এখানকার বাগান থেকে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারজাতকরণ নিয়েও চাষীদের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। এ কারণে উপজেলাজুড়ে লটকন চাষী বেড়েই চলেছে।
লটকন চাষাবাদ নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, চলতি বছর জেলায় ২১ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই আমরা কৃষকদের লটকন চাষে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছি। পরিকল্পিতভাবে চাষ বাড়লে লটকন এই অঞ্চলের অন্যতম লাভজনক ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও লাভজনক এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাহাড়ি অঞ্চলের পতিত জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান ও শক্তিশালী হবে স্থানীয় অর্থনীতি।
কৃ/স/জয়