স্টাফ রিপোর্টারঃ বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করতে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী শিল্পকারখানায় ইটিপি (বর্জ্য জল শোধনাগার) ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে নিয়মিত এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এই ব্যবস্থা অনলাইন মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৯ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৩০২ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক বুড়িগঙ্গা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নম্বর ৪৭। প্রায় ৪০০ বছর আগে এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ঢাকা শহর।
রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য, বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ময়লা সরাসরি নদীতে ফেলা এবং পলিথিনের কারণে নদীর পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ও এর আশেপাশের এলাকায় অসংখ্য ডাইং ও ওয়াশিং কারখানা, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কারখানা (ডকইয়ার্ড) গড়ে উঠেছে। পরিবেশগত নিয়মনীতি না মেনে এসব অবৈধ স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে নদী দূষণ করে আসছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চার পাশের নদ-নদী ও জলাশয় দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোপূর্বে জাতীয় পরিবেশ নীতি-২০১৮ প্রণীত হয়েছে, যার মধ্যে নদ-নদী, প্লাবনভূমি, জলাভূমি ও বিভিন্ন ধরনের জলাশয়ের প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে যুগোপযোগী নীতি নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ-এর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান,বুড়িগঙ্গা নদীতে ৩০৭টি বর্জ্যরে উৎস্যমূখ চিহিৃত করা হয়েছে। এছাড়াও নদীর তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা, ডকইয়ার্ড ও অন্যান্য স্থাপনার বর্জ্য ও ময়লা সরাসরি নদীতে না ফেলার জন্য মালিকদের ইতোমধ্যেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীতে বর্জ্যরে উৎস্যমুখ দিয়ে যাতে নদীতে বর্জ্য সরাসরি না পড়ে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি ঢাকার চারপাশে অবস্থিত বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী পরিদর্শন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মো. লুৎফর রহমান জানান,বুড়িগঙ্গায় পানিপ্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। নদীর পানি দূষণমুক্ত রাখতে ইটিপি ব্যবস্থা অনলাইন মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেজন্য দূষণপ্রবণ এলাকায় আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কারখানার ক্ষতিকর বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে সেখানে সরাসরি কন্ট্রোলরুম স্থাপন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কারখানা থেকে নির্গত পানিতে বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক, রঙ, তেল, ভারী ধাতু এবং ক্ষতিকর পদার্থ থাকে। এই অপরিশোধিত পানি সরাসরি ড্রেন বা নদীতে গেলে পরিবেশ, জলজ প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইটিপি মূলত পরিবেশ দূষণ রোধ করতে এবং পানিকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করতে ব্যবহার করা হয়।
কৃ/স/জয়