যশোর সংবাদদাতাঃ
যশোরের চাচড়া বাজার থেকে বিভিন্ন মাছের রেনু পোনা যাচ্ছে সারা দেশে। বছরে এই বাজার থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রেনু পোনা বিক্রি হচ্ছে। আর এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে জীবন এবং জিবিকা চলছে লক্ষাধিক মানুষের।
যশোর চাচড়া বাজার। মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই বাজারটি দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই এ বাজারে শুরু হয় এখানে রেনু ও চারা পোনা মাছের বেচা-কেনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী,
পাইকার,চাষীদের পদচারনায় সরগরম হয়ে ওঠে। দেশের রেনু ও মাছের পোনা উৎপাদনের সুতিকাগার বা হাব হিসাবে সারা দেশের কাছে পরিচিত। এটি দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ মাছের রেণু-পোনা উৎপাদন ও বেচাকেনার বাজার হিসাবে পরিচিত। দেশের মোট রেণু-পোনার ৭০ শতাংশই উৎপাদন করা হয় এখানে। এখানকার হ্যাচারিগুলোতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কই, শিং, টেংরা, বাইন ও তেলাপিয়া, মাগুর, টাকি, শোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেনু পোনা উৎপাদন করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে এক ইঞ্চি থেকে দেড় ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে প্রতি কেজি রুইয়ের পোনা বেচা হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৮০ টাকা, কাতলা ২৫০-৩০০ টাকা এবং সিলভার কার্প ১৫০-১৭০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া শিং মাছ প্রতি পিস ৪-৬ টাকা, টেংরা ২-৩ টাকা এবং পাবদা ৩-৪ টাকা, পাঙ্গাস বেচা হচ্ছে।
হ্যাচারী থেকে রেণু বেচা হচ্ছে- পাবদা ৬-৮ হাজার, কই ৪-৮ হাজার, পুটি ৪-৮ হাজার, বাইন ১২ থেকে ১৪ হাজার, শিং ১০-১২ হাজার, টেংরা ৮-১০ হাজার, গুলশা ৮-১০ হাজার, টাকি ৬-৮ হাজার।
এ বাজারে মাছের রেনু পোনা কিনতে আসা মাছ ব্যবসায়ি কানাইলাল সরকার বলেন, আমরা বাগেরহাট থেকে ৪০ জন ব্যাপারি এখানে মাছ নিতে এসেছি। মাছ কেনাকাটা শেষ। সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যেই ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের রেনু ও পোনা মাছ লোড দেওয়া হয়েছে। এসব মাছ বাগেরহাটের চিতলমারিসহ বিভিন্ন এলাকায় মাছের ঘেরে নিয়ে যাওয়া হবে। শুধু আমরা নই, প্রতিদিন এখান থেকে ট্রাক, পিকআপ, বাসের ছাদ ও ট্রেনে করে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বরিশাল, ভোলা, ফরিদপুর ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় পোনা নিয়ে যান ব্যাপারীরা।
বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সুমন বলেন, এখানকার মাছ সারা দেশ ছাড়াও ভারতেও রপ্তানি হয়। তার মতো বাজারে কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এ ব্যবসার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।
দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ব্যাপারী ও মাছ চাষীরা এখানে আসেন রেনু ও চারা পোনা কেনার জন্য। এ ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কয়েক লাখ মানুষ। বছরে এ বাজার ও হ্যাচারি থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার রেনু ও চারা পোনা মাছ সরবরাহ হয় দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এতে দেশের অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তবে এখানকার ব্যবসায়ীরা সরকারি ভাবে সুযোগ-সুবিধা পেলে এ অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন মাছ ব্যবসায়ীও হ্যাচারী মালিকরা।
যশোর সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ বলেন, যশোরে ছোট-বড় মিলে ৫০ টির অধিক মৎস্যে হ্যাচারি রয়েছে। এসব হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেনুপনা ও চারা মাছের পোনা সারাদশে সরবরাহ হয়। বছরে এ খাতে থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বেচাকেনা হয়। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এসব মাছ ব্যবসায়ী ও হ্যাচারি মালিকদের ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তারা নানা ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।
কৃ/স/জয়