কৃষি সময়
প্রকাশ : Nov 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা ফুলকপি চাষে লোকসানে

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ 
ঠাকুরগাঁওয়ে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হলেও বাজারদর কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। পাইকাররা কম দামে কপি কিনে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কিন্তু চাষীরা প্রকৃত মূল্যে পাচ্ছেন না। এতে অধিক খরচে এই সবজির চাষাবাদ করে কৃষকরা এখন বিপাকে পড়েছেন। 

ঠাঁকুরগাও জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা মাঠে মাঠে এবার বিপুল পরিমাণ জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাধাকপি চাষাবাদ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভাল। বাড়তি দামে সার,বীজ,কিটনাশক এবং শ্রমিক দিয়ে এ চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভবান হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এবার ঘটেছে তার উল্টো। চষীরা জমি থেকে ইতোমধ্যে কপি তুলে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। কিন্তু বাজারে কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না 

জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি বাজারে ৪৩ কেজির এক মণ কপির দাম মিলছে মাত্র ৪০০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ছে প্রায় ৯ টাকা ৩০ পয়সা। অথচ কৃষকদের দাবি, খুচরা বাজারে একই সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। বাজার আর পাইকার পর্যায়ে কপি বিক্রির এই দামের ফারাকে চাষীদের এখন লাভের পরির্বতে লোকশান গুনতে হচ্ছে। 

কৃষকদের মতে, কপির দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফসল বাজারজাত করার দুর্বল ব্যবস্থাপনাও তাদের সংকট বাড়িয়ে তুলছে। স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প না থাকায় মৌসুমে একসঙ্গে উৎপাদিত সবজি দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কমে গেলেও ভালো দামের আশায় ফসল ধরে রাখার সুযোগ থাকে না।

বেগুনবাড়ী এলাকার কৃষক শাহাবুদ্দিন জানান, এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার চারা রোপণ করতে হয়। শুধু চারা কেনার পেছনেই ব্যয় হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। এরপর পাঁচ দফায় সার প্রয়োগ, চারবার নিড়ানি এবং অন্তত ১০ বার সেচ দিতে হয়। এর বাইরে রোগবালাই দমনে বাড়তি খরচ তো রয়েছেই।

একই এলাকার কৃষক মনসুর আলী এবার দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল উৎপাদন পর্যন্ত তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে সবজি বিক্রি করে তার আয় ৮০ হাজার টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমরা মাঠে ফসল ফলাই, কিন্তু দাম নির্ধারণের সময় আমাদের কোনো হাত থাকে না। মণপ্রতি ৪০০ টাকা পেলে শ্রমিক খরচই ওঠে না।

চাষিদের দাবি, উৎপাদন খরচ সামাল দিতে কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি সবজির দাম অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে লোকসানের চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হয়েছে। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে আসায় দাম কমেছে। তবে এ পরিস্থিতি সাময়িক। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং শীত বাড়তে শুরু করলে সবজির দাম বাড়তে পারে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাজিমের আঙিনায় দেশি বিদেশি ফলের সমাহার

1

শিম চাষে লাভবান হচ্ছে চাষীরা

2

৪০৩ বস্তা সার জব্দ

3

যশোরে খেজুরগাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা

4

দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়ের আভাস

5

উপকূলের সংকট সমাধানে সর্বদলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবার আহ্বা

6

সাতক্ষীরায় বিলে জলাবদ্ধতায় বিপাকে কৃষকরা

7

বাকৃবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি রফিকুল সম্পাদক আসাদুজ্

8

৮ কোটির চিংড়ি ল্যাব অকার্যকর

9

৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন করা হবে-প্রধানমন্ত্রী

10

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

11

চুয়াডাঙ্গায় আনারকলি চাষে সাফল্য

12

বাউয়েটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন

13

কৃষকের জমির ধান পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

14

বগুড়ার উৎপাদিত সবজি যাচ্ছে সারা দেশে

15

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

16

বিদেশ নয়, এটা বাংলাদেশ,সমতলেই এখন সফল কমলা চাষ

17

দেশে আগের চেয়ে বেশি সারের মজুদ আছে-কৃষিমন্ত্রী

18

অবৈধ ঘেরে বিপন্ন নড়াইলের কৃষি

19

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে এ্যাবের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

20