ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ
ময়মনসিংহে বাণিজ্যিকভাবে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে রেকর্ড অতিত্রম করতে যাচ্ছে কৃষিসেবা অ্যাগ্রো ফার্মস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তারা এখন প্রতি মাসে প্রায় ১৫ টন জৈব সার উৎপাদিন করছেন। শিঘ্রই তাদের উৎপাদন পৌছে যাচ্ছে ৫০ টনে। এই ফার্মে উৎপাদিত সার ব্যবহার করে স্থানীয় কৃষকরা ফসল ও সবজি উৎপাদনে ভাল ফলাফল পাচ্ছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার সার যাচ্ছে সারা দেশে।
জানা যায়,এই প্রতিষ্ঠানের তি কর্মীকে বগুড়া পল্লী বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রকৌশলী নুরুল আলম রাজীব ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে তাদের দুই একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার চিন্তা থেকে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির উদ্যোগ নেন। বগুড়া থেকে ১০ কেজি কেঁচো এনে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন রাজীব। এরপর থেকে এখানে নিয়মিত ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করা হচ্ছে। এ সার তৈরি হতে গড়ে ৪৫ দিন সময় লাগে। ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে মাসে ১০০-১৫০ কেজি সার বিক্রি হলেও এখন প্রতি মাসে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৫ টন। স্থানীয় কৃষকরাই মূলত এ সার কিনছেন। কৃষি বিভাগও এখান থেকে সার সংগ্রহ করছে। প্রতি কেজি ১৬ টাকা দরে ৫০ কেজির বস্তায় সার বিক্রি করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চারজন শ্রমিক কাজ করছেন।
ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট পরিসরে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের প্রচলন থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে এ সার তৈরির উদ্যোগ এখনো তুলনামূলক কম। এমন পরিস্থিতিতে চুরখাইয়ের এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জৈব সারের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে।
সাধারণত কৃষকরা চৌবাচ্চায় ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করেন। তবে কৃষিসেবা অ্যাগ্রো ফার্মসে ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিকের ক্যারেট। উদ্যোক্তা রাজীবের দাবি, এ পদ্ধতিতে কম জায়গায় তুলনামূলক কম সময়ে বেশি সার উৎপাদন করা যায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১ হাজার ৬০০ ক্যারেটে সার তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে টেবিল পদ্ধতিতেও উৎপাদন শুরু করেছেন তিনি।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। চুরখাই এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদের ভাষ্য, কৃষিসেবা অ্যাগ্রো ফার্মসে ভার্মি কম্পোস্টের প্রদর্শনী করা হয়েছে। এখন সেখানে বাণিজ্যিকভাবে এ সার উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে এ সারের চাহিদা রয়েছে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ভার্মি কম্পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ।
কৃ/স/জয়