গাজীপুর সংবাদদাতাঃ
কলা চাষাবাদ করে বাজিমাত করেছে বায়েজিদ আলম বাপ্পি নামে এক কৃষি উদ্যোক্তা। ১৫ বিঘা জমিতে তিনি নানা জাতের কলা চাষাবাদ করছেন। যেখান থেকে তিনি খরচ বাদে বছরে আয় করছেন প্রায় ২০ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে বড় মাপের কৃষি উদ্যোক্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সফল এ উদ্যোক্তা গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, এ উদ্যোক্তা এক সময় বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। তখন থেকে তিনি নিজে কিছু করার চিন্তা করেন। প্রথমে তিনি বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের ড্রাম বসিয়ে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন। ভাল ফল পেলে সেই উৎসাহে নিজেকে কৃষিতে মনোনিবেশ করার চিন্তা করেন। পরে বাবার ৩ বিঘা পতিত জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করে ব্যাপক সফলতা পান। পরে ড্রাগন বাগান প্রসারিত করার পাশাপাশি বিদেশি আঙুরও চাষ করেন।
আড়াই বছর আগে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে কলার চাষ শুরু করেছেন তিনি। প্রথম বছরেই সব খরচ বাদ দিয়ে বছর শেষে চার লাখ আয় হয়। পরবর্তী বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় হয়। চলতি মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে নানা জাতের কলা চাষাবাদ সম্প্রসারণ করেছেন এই উদ্যোক্তা।
সরেজমিনে বাপ্পির বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কলা গাছের সবুজ পাতার আড়ালে উঁকি দিচ্ছে সারি সারি কলার ছড়ি। তার বাগানে রঙিন সাগর, সরবী ও তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত এঁটে কলার চাষ হচ্ছে। তবে রঙিন সাগর কলার চাষ ভালো হচ্ছে।
তার ১৫ বিঘা জমির কলা বাগানে প্রায় ১৫ হাজার কলাগাছ রোপণ করেছেন। আর এই বাগান থেকেই চলতি বছর ২০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
উদ্যোক্তা বাপ্পি বলেন, সাহস করে সেদিন সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম বলেই আজ সফল হতে পেরেছি। এই কলা চাষাবাদ আমার ভাগ্যও চাকা ঘুরিয়েছে। আগামীতে আর বড় পরিসওে নানা জাতের কলা চাষাবাদ করার চিন্তা আছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, বাপ্পি একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। আমরা তাকে কারিগরি ও অন্যান্য বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। তার কৃষির প্রতি আগ্রহ দেখে অনেকেই কৃষিতে উদ্ভুব্ধ হবেন। এবার কলা চাষে তার সফলতা দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে কলাচাষে আগ্রহ জানিয়ে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করছেন। আমরাও তাদের পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি।
কৃ/স/জয়