রাজশাহী সংবাদদাতাঃ
রাজশাহীর পদ্ম নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ নিধন করা হচ্ছে। এক শ্রেণীর অসাধু লোক দলবদ্ধ হয়ে এ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের হাত থেকে ডিমওয়ালা,ছোট বড় মাছ সহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণীও রক্ষা পাচ্ছে না।
রাজশাহীর প্রমত্তা পদ্মা ও তার শাখা-উপশাখাগুলো এখন দেশীয় প্রজাতির মাছের মুক্ত বিচরণক্ষেত্র হওয়ার কথা ছিল। অথচ এই প্রজনন মৌসুমে নদীজুড়ে চলছে বৈদ্যুতিক শকে মাছ নিধন। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মাধ্যমে সৃষ্ট এই বিদ্যুতায়িত ফাঁদে মুহূর্তের মধ্যে ধরা হচ্ছে মা মাছ, পোনা এবং নানা প্রজাতির অগণিত জলজ প্রাণী। চারঘাটের রাওথা, চন্দনশহরসহ দুর্গম চরাঞ্চলে একদল সংঘবদ্ধ মাছ শিকারী এভাবে মাছ নিধন করছে।
নৌকা কিংবা বোটে সাধারণ যানবাহনের ব্যবহৃত বড় ও ছোট ব্যাটারির সঙ্গে ইনভার্টার যুক্ত করে তৈরি হয় এই বৈদ্যুতিক সংযোগ। একটি তার পদ্মায় এবং অন্যটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি বিশেষ জালির প্রান্তে। জালিটি পানিতে নামানো মাত্রই মুহূর্তের মধ্যে আট থেকে ৩০ ফুট ব্যাসার্ধের পুরো এলাকা হয়ে ওঠে বিদ্যুতায়িত। এভাবে শক দিয়ে নির্বিচারে বিপুল পরমিাণ মাছ ধরা হচ্ছে। এই বৈদ্যুতিক শকের হাত থেকে কোন মাছই রক্ষঅ পাচ্ছে না। শুধু মাছ নয় শক জালে মারা পড়ছে নানা জলজ প্রাণীও। এই পদ্ধতিতে মাছ শিকারের কারনে নদী-নালা থেকে কমছে দেশি মাছের বংশ।
চারঘাট উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে নদী থেকে মাছ আহরণ হয়েছিল ৩৮১ টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩৭৩ টনে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৬০, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫২ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৪০ টনে। অর্থাৎ গত ৫ বছরে চারঘাটের নদী এলাকা থেকে উৎপাদন কমে গেছে প্রায় ৪১ টন।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ’ এ প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে পদ্মার ৭৭ প্রজাতির মাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩টি সংকটাপন্ন, ১০টি বিপন্ন, ৯টি অতিবিপন্ন এবং আরও ৯টি বিপন্নপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামস মুহা. গালিব জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে মাছের আশ্রয় সংকুচিত হয়, আর বর্ষায় অসাধু চক্র মেতে ওঠে মা মাছ ও পোনা নিধনে। এমনটা চলতে থাকলে পদ্মায় দেশীয় মাছের বিলুপ্তি ঠেকানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। দ্রুত অভয়াশ্রম গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।
চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাসিক সভায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়