নরসিংদী সংবাদদাতাঃ
মরা নদী নামে একটি নদীর এখন সত্যিকারে মরণদশা। দখল,দুষণে এই নদী তার গতি হারিয়েছে। এর ভিতর ময়লা-আবর্জনা আর বর্জ্য ফেটে ভরাট করা হয়েছে। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এলাকার কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে এখন বিরুপ প্রভাব পড়েছে। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা মরা নদীর এ অবস্থা।
জানা যায়,এই নদী একসময় এলাকার জনজীবন ও অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। দখল’দুষণে এখন বোরো, আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমে ফসল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে তীব্র সেচ সংকট। নদীর পানি ব্যবহার করে স্বল্প খরচে কৃষিকাজ পরিচালনার যে সুযোগ ছিল, তা প্রায় হারিয়ে গেছে। বিকল্প উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের সংযোগভিত্তিক এই জলধারা একসময় আশপাশের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। নদীটি মরে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী বড়শুক্কুর বাজারে দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীদের যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জলপথের সুবিধা নষ্ট হওয়ায় কৃষক ও খামারিদের ভোগান্তি বেড়েছে। নদীটির এমন অবস্থায় সংকট শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নদীর নাব্য হারানোর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও।
মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আসাদ মিয়ার ভাষ্য, পাহাড়কান্দি, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর, তালুককান্দি, তুলাতলী ও গৌরিপুর গ্রামের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মরা নদী। নদীতে পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে তারা স্থানীয়ভাবে ভূমিকা রাখতে চান। একই সঙ্গে দখল ও দূষণমুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেছেন, ‘শুধু মরা নদী নয়, খননের জন্য উপজেলার বেশ কয়েকটি খালের তালিকা পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।’ কেউ খাল বা নদী দখল করে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কৃ/স/জয়