পটুয়াখালী সংবাদদাতাঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ‘রেইজড বেড’ পদ্ধতিতে ‘বারি-৪’ জাতের আগাম শিম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। বাজারে আগাম শিমের চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শম।
কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এবার আগাম জাতের শিম চাষাবাদ করেছেন চাষীরা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় শিমের ভাল ফলন হয়েছে। জমি থেকে শিম তুলে চড়া দামে বিক্রি করছেন চাষীরা। এখানকার বাজারে ১২০-১৫০ টাকা কেজিতে শিম বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে সার ও কীটনাশক কিনতে হয়েছে। এখনো চড়া দামে কৃষিসামগ্রী কিনতে হচ্ছে। ফলে ভালো ফলন পাওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা তাদের লাভ দেখতে পারছেন না।
স্থানীয় সবজি চাষী আব্দুল কাদের সিকদার বলেন,ছালাম সিকদার ২০-২৫ বছর ধরে শিম চাষ করেন। তার বিষমুক্ত শিম চাষ দেখে আমিও সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। তবে সারের দাম অনেক বেশি হওয়ায় ঠিক সময়ে সার দিতে পারছি না। সার ও কীটনাশকও চড়া দামে কিনতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি।
উপজেলার পাখিমারা গ্রামের চাষী আবদুস সালাম জানান, সরকারি কোনো অনুদান ছাড়াই তিনি ১২০ শতক জমিতে ৩৩টি বিট (বেড) তৈরি করে বারি-৪ জাতের শিম চাষ করেছেন। এ জাতটিতে চারা রোপণের ৫০ দিনের মধ্যে ফলন আসে এবং বছরজুড়েই ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতিদিন তার জমি থেকে গড়ে ৫০-৬০ কেজি শিম তোলা হচ্ছে, যা পাইকারি আড়তে ১০০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আগাম সবজি হিসেবে চাহিদা বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে এ শিম ১২০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ শিম থেকে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি। তবে সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তার উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার আরাফাত হোসেন বলেন, কৃষকদের সবজি চাষে নিয়মিত উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের রোগবালাই নির্মূলে ও সঠিক সার ব্যবস্থাপনায় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রেইজড বেড পদ্ধতিতে আগাম শিম চাষে কৃষকরা ভালো ফলন এবং লাভ দুটোই পান। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।
কৃ/স/জয়